কারমাইকেল কলেজে ৩২ হাজার শিক্ষার্থীর একজন চিকিৎসক

কারমাইকেল কলেজে ৩২ হাজার শিক্ষার্থীর একজন চিকিৎসক

সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, রংপুর : রংপুরে কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য সেখানকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দায়িত্ব পালন করছেন একজন মাত্র চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সহকারী। নেই চিকিৎসার প্রয়োজনীয় উপকরণ ও ওষুধপত্র। অপরিষ্কার এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিরতে  এখন পর্যন্ত কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯১৬ সালে  কারমাইকেল কলেজে প্রতিষ্ঠিত  হয়। ৯০ দশক থেকে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির সময় তাদের কাজ থেকে ২৫ টাকা করে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য নেয়া হয়। বর্তমানে ওই চিকিৎসা কেন্দ্রে ন্যূনতম চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা নেই। ৩২ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন মাত্র একজন চিকিৎসক। সেই চিকিৎসকের পারটাইম চাকরি হওয়ার কারণে তাকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র সহজে  পাওয়া যায় না। এছাড়াও বেশির ভাগ সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকে। বাংলা বিভাগের ছাত্র রফিকুল ইসলাম জানান, দিন দিন চিকিৎসা সেবার মান কমে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ চিকিৎসা সেবার সরঞ্জাম নেই। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি অপরিচ্ছন্ন। বাথরুম ব্যবহারে অনুপযোগী। একই বিভাগের শিক্ষার্থী সাহানা পারভিন জানান, এখানে সব সময় ডাক্তার থাকে না। স্বাস্থ্য সহকারীর মাধ্যমে সেবা নিতে হয়। মাথাব্যথা, জ্বর, ডায়রিয়ার ওষুধ ছাড়া অন্য     

কোনো রোগের ওষুধ পাওয়া যায় না মেডিকেল সেন্টারে। বেশির ভাগ সময় হাতে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে প্রেসক্রিপশন। পর্যাপ্ত ওষুধ আর  নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায়  বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে ক্লিনিক ও  রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কলেজটির মেডিকেল সেন্টারটিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম হিসেবে রয়েছে একটি ওজন মাপার মেশিন, প্রেশার মাপার দু’টি যন্ত্র, আলমারি আর সামান্য কিছু মেডিসিন। সামাজিক সংগঠন বাঁধনের কারমাইকেল কলেজ শাখার  সদস্যরা জানান, এখানে ৩২ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপাড়া করছে।  স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে সেবার মান বাড়ানো উচিত। সেই সাথে তারা একটি অ্যাম্বুলেন্স সংযোজনেরও দাবি জানান। কলেজের চিকিৎসক সর্মিলা সরকার রুমা জানান, তিনি পারটাইম  নিয়োগ পেয়েছেন। সপ্তাহে শনি, সোম ও বুধবার স্বাস্থকেন্দ্রে বসেন। এছাড়া তিনি শিক্ষার্থীদের ফোনেও পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলেও জানান। স্বাস্থ্য সহকারী জোবাইদুল ইসলাম জানান, এখানে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাসহ তাদের পরিবারের লোকজনও চিকিৎসা নিতে আসেন। যথাসাধ্য সেবা দেয়া হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে প্রায় ২০ প্রকারের ওষুধ দেয়া হয়। কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডক্টর মো. শেখ আনোয়ার হোসেন জানান, ৪ মাস আগে এই স্বাস্থকেন্দ্রের জন্য একজন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতি মাসে ওষুধ কেনা হয়। আগের চেয়ে সেবার মান বাড়ছে বলে জানান তিনি।