কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনা: তদন্ত কমিটির ৫ দফা সুপারিশ

কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনা: তদন্ত কমিটির ৫ দফা সুপারিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগের ট্রেন দুর্ঘটনায় ৫টি সুপারিশ করেছে দুর্ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি। যা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন রেলমন্ত্রী।


বুধবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর রেল ভবনে সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য কিছু সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। 

তদন্ত কমিটির সুপারিশগুলো হলে- ট্রেনের লোকোমাস্টার, সহকারী লোকোমাস্টার ও গার্ডের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য লোকোমোটিভে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা, ট্রেনের অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ট্রেনের অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মচারীদের শূন্যপদ পূরণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া,  স্টেশন এবং ট্রেনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য ক্লোজার গ্রুপের মোবাইল ফোন অথবা আধুনিক অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা এবং বাংলাদেশ রেলওয়েতে অটোমেটিক স্টপ সিস্টেম প্রবর্তন করার ব্যবস্থা নেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে মন্দবাগে ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটনায় তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের লোকোমাস্টার, সহ-লোকোমাস্টার ও গার্ড দায়ী বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, তাদের অবহেলাজনিত কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তা প্রমাণিত হয়েছে।

রেলমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনায় দায়ীদের তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের লোকোমাস্টার, সহ-লোকোমাস্টার ও গার্ডের বিচার রেল আইন অনুযায়ী করা হবে। তবে তা একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় মধ্যে। এখন অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। পরে প্রয়োজনীয় শাস্তি দেওয়া হবে।

নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, রেল আইন যুগোপযোগী করার জন্য কাজ চলছে। শিগগির নতুন আইন করা হবে। 

প্রতিটি দুর্ঘটনার জন্য রেল দায়ী নয়। আপনি ক্রসিং মানলেন না, মোবাইল ফোন নিয়ে রেল লাইনে কথা বলবেন, এতে দুর্ঘটনা ঘটলে রেল দায়ী নয়। কিন্তু রেলের ইঞ্জিন বড় বলে রেলকে দায়ী করা হয়, বলেন রেলমন্ত্রী। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে সচিব মো. মোফাজ্জল হোসেন, রেলের মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মিয়া জাহান।

গত সোমবার (১১ নভেম্বর) দিনগত রাত ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী ‘তূর্ণা নিশীথা’র সঙ্গে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে যাত্রা করা ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এ দুর্ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীনসহ মোট ১৭ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন অর্ধশতাধিক।