কর্মমুখী শিক্ষা চাই

কর্মমুখী শিক্ষা চাই

কোনো দরিদ্র পরিবারের শিশু যাতে দ্রুততম সময়ে পরিবারের অসচ্ছলতা দূর করতে ভূমিকা রাখতে পারে- এটি বিবেচনায় নিয়েই কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সর্বশেষ প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতিতেও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে। বিশেষ করে সর্বস্তরের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শিল্প-কারখানায় বাস্তব প্রশিক্ষণের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বে বর্তমানে অদক্ষ শ্রমিকের বাজার সংকুচিত হওয়ার ফলে দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়টিও বারবার আলোচনায় আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী জনসংখ্যার আধিক্য। যথাযথ কারিগরি জ্ঞান ও অদক্ষতার কারণে এই জনসম্পদের পুরোটা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বিআইডিএস এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, সম্ভাবনাময় ১০টি খাতের ৯০ শতাংশ শ্রমিকের প্রশিক্ষণ নেই।

গবেষণা প্রতিবেদনে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, নির্মাণ, স্বাস্থ্য, পর্যটন, তথ্য প্রযুক্তি, চামড়াজাত, হালকা প্রকৌশল, তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও জাহাজ নির্মাণ শিল্প-এই ১০ খাতে পর্যালোচনা করা হয়েছে। যথাযথ শিক্ষার মাধ্যমে এই জনসংখ্যাকে যদি জনশক্তিতে রূপান্তর করা যেত, তা হলে এ জনসংখ্যাই হতে পারত বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ, দেশের জন্য সবচেয়ে বড় আশির্বাদ। বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। সর্বোপরি শিক্ষার পাশাপাশি প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা থাকা দরকার, যাতে শিক্ষা শেষে তরুণ-তরুণীরা প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থা থাকলে জনশক্তি আমদানিতে সুফল আসত। দেশ থেকে এখন বেশির ভাগই অদক্ষ জনশক্তি রফতানি হচ্ছে। প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে তাদেরকে কম বেতনে কাজ করতে হচ্ছে। কাজের চাহিদা বিবেচনায় রেখে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা জরুরি বলে আমরা মনে করি।