কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকের অনীহা

কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকের অনীহা

সরকারি হাসপাতালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সোমবার রাজধানীসহ সারা দেশে ১১ সরকারি হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে দুদক। এতে ৪০ শতাংশ চিকিৎসককে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। দুদকের এ অভিযানের পর স্বাস্থ্য খাতের কর্মকর্তারাও নড়ে চড়ে বসেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সরকারি হাসপাতালগুলো নজরদারিতে মনিটরিং টিম করা হচ্ছে। খোদ সরকার প্রধান বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিয়ে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। সর্বশেষ গত অক্টোবরেও উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অবস্থান করে সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। চিকিৎসা একটি মানবিক পেশা। দুনিয়ার সবচেয়ে মহত্তম পেশাগুলোরও একটি।

বাংলাদেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করা। চিকিৎসা আর দশটা পেশার মতো নয়। এখানে মানুষের বাঁচা-মরার প্রশ্ন আছে। চিকিৎসার সঙ্গে আন্তরিকতা ও সেবার মনোভাব অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সে কারণেই এই পেশাটিকে মহৎ পেশা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে সরকারের চেষ্টার অন্ত নেই। থানা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত স্বাস্থ্য সেবা বিস্তৃত করা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকদের মধ্যে গ্রামে না যাওয়ার প্রবণতা আছে। আধুনিক চিকিৎসার সুফল দেশের তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে না পারলে সরকারের সৎ উদ্দেশ্য সফল হবে না। এর জন্য চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মিদের একাত্মতা প্রয়োজন। চিকিৎসা সেবায় কারো গাফিলতি মেনে নেওয়া যাবে না। চিকিৎসালয়ের ব্যবস্থাপনার সার্বিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে।