করোনায় আক্রান্ত বাংলাদেশির রুমমেটসহ ১৯ জন কোয়ারেন্টাইনে

করোনায় আক্রান্ত বাংলাদেশির রুমমেটসহ ১৯ জন কোয়ারেন্টাইনে

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশি শ্রমিকের রুমমেট ও সহকর্মীসহ মোট ১৯ জনকে কোয়ারেন্টাইন (বিচ্ছিন্ন) করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুর। সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কায় এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়, গত দুই দিনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ মোট ১৯ জনকে বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ জারি করেছে। এদের মধ্যে ওই শ্রমিকের রুমমেট ১০ জন, তার সঙ্গে কোম্পানির একই গাড়িতে যাতায়াতকারী ৮ জন এবং তার কর্মক্ষেত্রের এক প্রকল্প ব্যবস্থাপক রয়েছেন।

সিঙ্গাপুরের সংবাদমাধ্যম জানায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি ৩৯ বছর বয়স্ক ওই ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি তাকে সিঙ্গাপুরের জিপি ক্লিনিকে পাঠানো হয়। এর দুদিন পর ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশি এই প্রবাসীকে চাঙ্গি জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে বেডোক পলিক্লিনিকে পাঠানো হয়।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওই বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। পরে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে বাংলাদেশি এই প্রবাসী লিটল ইন্ডিয়ার মুস্তফা সেন্টারে যান। সেখানে কাকি বুকিতের দ্য লিও ডরমেটরিতে অবস্থান করেন তিনি। বিবৃতিতে বলা হয়, তার কর্মস্থল ও আবাসস্থলের মধ্যেই ওই বাংলাদেশির বেশিরভাগ চলাফেরা সীমাবদ্ধ ছিল।

কর্মক্ষেত্রে অসুস্থ বোধ করার সঙ্গে সঙ্গে ওই শ্রমিকের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাকে কাজ থেকে সরিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করে বলে জানায় মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়।

সিঙ্গাপুরের ওই শ্রমিকই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম বাংলাদেশি। এর বাইরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বাইরে কোনো বাংলাদেশির আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়নি।

এর আগে সোমবার হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান  বলেন, আক্রান্ত বাংলাদেশির সঙ্গে তার রুমে ওই আটজনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। যে ডরমেটরিতে তিনি থাকতেন, সেখানকার বাসিন্দাদের কর্মস্থলে না গিয়ে আপাতত রুমে থাকতেই পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

হাইকমিশনার জানান, আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচয় জেনেছে হাইকমিশন। কিন্তু তার ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচয় প্রকাশ না করতে সিঙ্গাপুর সরকারের নিষেধ রয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ দূতাবাস ওই কর্মীসহ সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। আক্রান্ত বাংলাদেশির চিকিৎসাসহ সার্বিক ব্যাপারে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে হাইকমিশন।

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত সে দেশেই মৃত্যু হয়েছে ৯০৮ জনের। এছাড়া ফিলিপাইন ও হংকংয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও দুজনের। অর্থাৎ সবমিলিয়ে সোমবার পর্যন্ত এই ভাইরাস কেড়ে নিয়েছে ৯১০ জনের প্রাণ। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

চীনের বাইরে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপান, সিঙ্গাপুরসহ আরও ২৭টি অঞ্চল বা দেশে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। এক্ষেত্রে চীনের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা সিঙ্গাপুরে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে।

এদিকে, গত ১ ফেব্রুয়ারি উহান থেকে ৩১২ জন বাংলাদেশিকে বিশেষ একটি বিমানে করে ঢাকায় ফেরত আনা হয়। বর্তমানে তারা আশকোনার হজ ক্যাম্পে ১৪ দিনের জন্য বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের সেখানে রাখা হবে বলে জানা গেছে।

হুবেই প্রদেশ থেকে ফিরতে আরও ১৭১ বাংলাদেশি আবেদন জানালেও তাদেরকে এখনই ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।