কম বয়সে বিয়ে করে আমি লাকি: লিটন

কম বয়সে বিয়ে করে আমি লাকি: লিটন

বঙ্গবন্ধু বিপিএলের লিগ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই রাজশাহী রয়্যালসের হয়ে ওপেন করেছেন লিটন দাস। ১২ ম্যাচে এরই মধ্যে মোট সংগ্রহ ৪২২ রান। সব শেষ ইনিংসেও অর্ধশতক ছিল। শনিবার চট্টগ্রামের বিপক্ষে ৭৫ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দিয়েছেন এই ওপেনার। ম্যাচ সেরা হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাও বলেছেন তিনি।
লিটন যখন আউট হন তখন দরকার ছিল মাত্র ১৮ রান। আরেকটু অপেক্ষা করলে শেষ করেই মাঠ ছাড়তে পারতেন। এই বিষয়ে খানিকটা আক্ষেপও রয়েছে তার।
‘আফসোস তো অবশ্যই থাকবে। আমি যখন আউট হয়েছি তখন বলের থেকে রান অনেক কম লাগত। নট আউট থাকলে ভালো হতো।’
টি-টোয়েন্টিতে সাধারণত দ্রুত রান তুলেই বিদায় নিতে দেখা যায় লিটনকে। যদিও এবারের চিত্রটা ভিন্ন। মূলত বল বুঝে খেলছেন বলেই এমন পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি ডান-হাতি এই উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যানের।
‘আমি এর আগে যে কয়েকটি বিপিএল খেলেছি…মারলে মারতেই থাকতাম। আমার পরিকল্পনা থাকতো আমি সব ধরণের শট খেলতে পারি তাই সব শট খেলবো। কিন্তু এই বিপিএলে আমি অনেক শট কমিয়ে দিয়েছি। আগের দুই-তিন বিপিএলে হয়তো আমার ১৫ বলে ২৭ বা ৩০ রান থাকত। তখন আউট হয়ে যেতাম। কিন্তু এ বিপিএলে দেখবেন ম্যাক্সিমাম রান আমার ১৫ বলে ১৭ বা ১৩। ওই জায়গাটায় আমি হয়তো নরমাল ক্রিকেট খেলছি। পাওয়ার প্লে’তে অবশ্য বোলাররা ব্যাকফুটে থাকে সব সময়। আমি যদি একটা চার মেরে দেই পরের বলে বোলাররা কি করবে তা একবার হলেও চিন্তা করতে পারে। এখানে নিজেকে একটু ব্যাক করার চিন্তা করছি। তাই সব ধরণের শট খেলা বাদ দিয়েছি। বেছে বেছে খেলছি।’
জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জির সঙ্গে কাজ করেই রানের ধারবাহিকতা এসেছে। এমনটাই জানালেন লিটন।
‘ব্যাটিংয়ে আমার ফুট মুভমেন্ট একটু পরিবর্তন হয়েছে। আমি আগে এভাবে ব্যাটিং করতাম না। নিলের সঙ্গে অনেক দিন হলো কাজ করছি। কাজের কারণে একটু পরিবর্তন হয়েছে।’
তবে বিয়ে করার কারণেই এমন আমূল পরিবর্তনের এসেছে বলে জানান ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। 
‘বেশি ম্যাচ আবার অভিজ্ঞতা তো আছেই। আমি খুব লাকি যে কম বয়সে বিয়ে করতে পেরেছি। বিয়ে জিনিসটা আমার ম্যাচুউরিটি লেভেলটা বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা আমি ফিল করি। জানি না কে কিভাবে ফিল করে। ওই জিনিসটাই ফিল করছি।’
বিয়ের পর ক্রিকেট ও ব্যক্তিগত জীবনে সব জায়গায় দায়িত্বের বেড়েছে বলে যোগ করেন লিটন। 
‘আমি যখন ২০১৬-২০১৭ সালে খারাপ ক্রিকেট খেলেছি তখন জাতীয় দলের বাইরে ছিলাম। আমি কিন্তু অফ-ফর্মে থাকিনি। ওই জায়গায় আমি অনেক কিছু শিখেছি। ঠেকেছি প্লাস শিখেছি। ওটা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। আবার বিয়ের পর আবার ম্যাচউরিটি লেভেল বেড়েছে। সেটা ক্রিকেট হোক। মাঠে হোক বা মাঠের বাইরে হোক। সবকিছুতেই।’