কথা বলতে পারেন না, কানেও শোনেন না : যুবতী হয়ে গেলেন কোটিপতি

কথা বলতে পারেন না, কানেও শোনেন না : যুবতী হয়ে গেলেন কোটিপতি

জন্মেছেন তিনি নানা ত্রুটি নিয়ে। সেটা প্রকৃতির খেয়াল। কিন্তু নিজেকে তিনি তৈরি করেছেন আর দশটা মানুষের মতো। সেটা শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী তরুণী কৌশল্যা কার্তিকের লড়াই। সে লড়াইয়ের জন্য এলাকার সবাই তাকে ভালোবাসে। সবাই তাকে সাহায্য করে। গর্ব করে তাকে নিয়ে।

সেই গর্বের পরিধিটা আরও বাড়িয়ে দিলেন কৌশল্যা। তিনি ভারতের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘কউন বনেগা ক্রোড়পতি’র (কেবিসি) মঞ্চে হাজির হয়ে ১ কোটি রুপি জিতে নিয়েছেন সবাইকে অবাক করে দিয়ে।


বিশেষভাবে সক্ষম প্রতিযোগী হিসেবে 'কউন বনেগা ক্রোড়পতি'-র তামিল ভার্সনে উপস্থিত হয়েছিলেন কৌশল্যা। তার শ্রবণশক্তি ও বাকশক্তির সমস্যা রয়েছে। কিন্তু সে সব প্রতিকূলতা হয়ে দাঁড়ায়নি তার সাফল্যের জন্য। একে একে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কোটিপতি হয়ে গেলেন তিনি।
 
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানাচ্ছে, মাদুরাইয়ের বাসিন্দা কৌশল্যা কার্তিক। শ্রবণ ও বাকশক্তির সমস্যায় ভোগছেন তিনি ছোটবেলা থেকেই। ৩১ বছরের কৌশল্যা কার্তিক মঙ্গলবার তামিল ক্রোড়পতি শোয়ের প্রথম কোটিপতি হয়েছেন। বিশেষভাবে সক্ষম কৌশল্যা মাদুরাইয়ের প্রিন্সিপাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত। তাঁর শ্রবণশক্তি ও বাকশক্তির সমস্যা রয়েছে। তাই কোটি টাকা জিতে একটি হোয়াইট বোর্ডে লিখে জানালেন কৌশল্যা- তিনি খুবই খুশি।

‘কউন বনেগা ক্রোড়পতি’-র তামিল সংস্করণের নাম ‘কোডিশ্বরী’। ওই শোয়ের প্রত্যেকটি রাউন্ড অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে পেরিয়েছেন কৌশল্যা এবং অবশেষে ১ কোটি টাকা জিতে নিয়েছেন তিনি, ২১ জানুয়ারি। কৌশল্যা তো এই সাফল্যে খুশি বটেই, তার এই জয়ে দর্শকও উচ্ছ্বসিত।

এই সাফল্যের পরে তিনি একটি বিবৃতিতে জানান, ‘প্রতিদিনের জীবনে আমাকে সবসময়ই আমার পরিবারের সদস্যের উপর নির্ভর করতে হয়েছে। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই আমার জেদ ছিল কীভাবে নতুন কিছু শিখতে পারি আর যা শিখছি সেটাতে যেন উৎকর্ষতায় পৌঁছতে পারি। আমি যে এই শো-তে অংশগ্রহণ করতে পেরেছি, তার জন্য আমি ‘কালারস তামিল’কে অনেক ধন্যবাদ জানাই।


রাধিকা ম্যামের সঙ্গে হটসিটে বসার অভিজ্ঞতাটা দারুণ। উনি আমাকে অত্যন্ত সহজ করে নিয়েছিলেন। এই আইকনিক গেম শো-তে আসতে পেরে আর ক্রোড়পতি হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করতে পেরে আমি খুব গর্বিত বোধ করছি।’

১ কোটি টাকা পুরস্কার মূল্যের একটা বড় অংশ তিনি দান করতে চান নগরকয়েল-এর ডিফ অ্যান্ড ডাম্ব স্কুলে। এইভাবেই তিনি পাশে দাঁড়াতে চান সেই শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের যেখান থেকে তার শিক্ষার সূত্রপাত। ওই স্কুলই তাকে প্রেরণা দিয়েছে প্রতিকূলতা জয় করে এগিয়ে যেতে। এছাড়া বিদেশভ্রমণের স্বপ্ন তার বহুদিনের। কৌশল্যা জানিয়েছেন হয় ইতালি নয়তো সুইজারল্যান্ডে বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে।