২০টি বিদ্যালয় ভবনে ফাটল: পরিত্যক্ত ৩টি

কখনো মাঠে প্রখর রোদে আবার কখনো গাছ তলায় চলছে ক্লাস

কখনো মাঠে প্রখর রোদে আবার   কখনো গাছ তলায় চলছে ক্লাস

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার সোনাতলায় ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে ফাটল ও তিনটি বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় শ্রেণি সংকটে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে। অপরদিকে উপজেলার প্রায় ৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন সংষ্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। এসব বিদ্যালয়ের বেশিরভাগে শ্রেণি সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের কখনো মাঠে আবার কখনও গাছতলায় কিংবা প্রখর রোদে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে।  উপজেলার পাঠানপাড়া, চাড়ালকান্দি, চরপাড়া, কাতলাহার, উত্তর বাঁশহাটা শান্তিপুরী, উত্তর সুখানপুকুর, জোড়গাছা, গোসাইবাড়ী, শাহবাজপুর, দক্ষিণচরপাড়া, রশিদপুর, ছাতিয়ানতলা, নওদাবগা, লক্ষ্মিনারায়নপাড়া, খয়ের উদ্দিন, জিল্লুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ।

পাঠানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা গেছে, ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩শ’। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছে ৪ জন। ১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়ে প্রথম একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। যা নির্মাণের মাত্র ২০ বছরের মাথায় গত ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে ভবনটি ব্যবহারের অনুপোযোগি ঘোষণা করে উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ। এছাড়াও চাড়ালকান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি ২০১৭ সালে অনুপযোগি ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। অপরদিকে চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটিও ঝুঁকিপূর্ণ। শ্রেণি সংকটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদান করাচ্ছেন। ওই সব বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে কখনো বিদ্যালয় মাঠে প্রখর রোদে, আবার কখনো গাছের নিচে বসে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাস করতে দেখা গেছে।
পাঠানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, সব সময় শ্রেণি কক্ষে টেনশনে থাকতে হয়।

 কখন যে ছাদ ধ্বসে প্রাণহানী ঘটে। তাই কখনও খোলা মাঠে আবার কখনও গাছ তলায় বসে ক্লাস করতে হয়। এ ব্যাপারে পাঠানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েল প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র সাহা জানান, ভবন ঝুঁকিপূর্ণ এবং ব্যবহার অনুপোযোগি হওয়ার পরও ঝড়বৃষ্টির দিনে জীবনের ঝুঁকিনিয়ে ক্লাস করতে হয়। একই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক দুলাল চন্দ্র সাহা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান বিদ্যালয়টিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফেরদৌসি বেগম জানান, অচিরেই প্রায় ২৩টি বিদ্যালয়ে নতুন ভবন এবং ৫৬টি বিদ্যালয় সংষ্কারের কাজ শুরু হবে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জানান, অল্প সময়ের মধ্যে ১৩টি বিদ্যালয়ে নতুন ভবন এবং ৫৬টি বিদ্যালয় সংষ্কার করা হবে।