ওষুধ রপ্তানিতে সাফল্য

ওষুধ রপ্তানিতে সাফল্য

বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে এ দেশে ব্যবহৃত ওষুধের সিংহভাগই আমদানি করা হতো বিদেশ থেকে। সামান্য যে ওষুধ তৈরি হতো দেশে তার গুণগত মান নিয়ে ছিল প্রশ্ন। কিন্তু স্বাধীনতার সাতচল্লিশ বছর পর বাংলাদেশ চাহিদার সিংহভাগ ওষুধই নিজেরা উৎপাদন করছে। দেশে এখন প্রয়োজনীয় ওষুধের ৯৮ শতাংশই তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যসহ ১৪০টি দেশে ওষুধ রপ্তানিও হচ্ছে। গত  অর্থ বছরে ১০ কোটি ৩৪ লাখ মার্কিন ডলারের ওষুধ রপ্তানি হয়েছে। দেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৮৬৮ কোটি টাকা। সম্প্রতি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন খুব কড়া। বাংলাদেশের ওষুধের মান উন্নত বলেই যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে ওষুধ রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে। প্রথম বাংলাদেশি কোম্পানি হিসেবে কানাডায় ওষুধ রপ্তানি শুরু করেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল। চোখের এলার্জির ওষুধ ও লোপটাডিন রপ্তানি শুরুর মাধ্যমে কানাডার বাজারে প্রবেশ করেছে বেক্সিমকো। এ ছাড়া আরো বেশ কয়েকটি ওষুধ কানাডায় রপ্তানির জন্য বেক্সিমকোর আর এন্ডবি পাইপ লাইনে রয়েছে। বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি প্রতি বছরই বাড়ছে এবং আশা করা হচ্ছে আগামীতে এটি রপ্তানির অন্যতম প্রধান খাত হয়ে উঠবে। ওষুধ রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ। রপ্তানি বহুমুখী করণের ক্ষেত্রে ওষুধ শিল্প খুলে দিতে পারে সম্ভাবনার দ্বার। ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনকারী কোম্পানিকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে শুল্ক মওকুফের সুবিধা। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ওষুধ উৎপাদনের জন্য ডব্লিউটিএ থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত মেধাস্বত্ব (পেটেন্ট) আইন মানার বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় পেয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নেতৃস্থানীয় ওষুধ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্থানের যে সুযোগ রয়েছে তাকে কাজে লাগাতে হবে। দেশে কাঁচামাল তৈরি হলে তা বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে। ওষুধ উৎপাদনের খরচও হ্রাস পাবে। ওষুধ শিল্পের পরিসর বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও রাখবে ইতিবাচক প্রভাব।