ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

আজ ৭ মার্চ। ইতিহাসের সেই উজ্জল দিন আজ, যেদিন রচিত হয়েছিল রাজনীতির এক ঐতিহাসিক মহাকাব্য। সেই দিনটিও তো ছিল বসন্তের এক পাতাঝরা দিন। কিন্তু আর দশটা দিনের চেয়ে আলাদা ছিল একাত্তরের ৭ মার্চ, ছিল অন্য রকম। এই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। মূলত সেদিন থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সব সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। আলোচনার নামে প্রহসন করতে ঢাকায় এসেছিলেন ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো। এ দেশের মানুষকে নির্বিচারে হত্যার নির্দেশ দিয়ে ঢাকা ত্যাগ করলেন তারা। মাত্র ২২ মিনিটের ভাষণে একটি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে যেভাবে উজ্জীবিত করেছিল, তার তুলনা আর কোনো কিছুর সঙ্গে হতে পারে না। বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। এই দিনে বাঙালি জাতির দীর্ঘদিনের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল একটি কন্ঠ। অন্যায়, অগণতান্ত্রিক আচরণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে, জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে  জাতিকে পরিপূর্ণভাবে জাগিয়ে তুলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অশেষ আত্মত্যাগের বিনিময়ে রাজনৈতিক স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি। মুক্তির সংগ্রামে বিজয়ী হওয়াই নবতর প্রেক্ষাপটের প্রধান চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে, তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ-কলঙ্ক মুছে গেছে। কিন্তু এখনও অনেক পথ বাকি এবং এ জন্য অর্থনীতির প্রতিটি শাখাকে শক্তিশালী করা চাই। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিন। মূলত এই দিনটি থেকেই যেন স্বাধীন হয়ে যায় বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ যেন রাজনীতির এক মহাকাব্য। আর সেই মহাকাব্যের মহাকবি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।