এসিড সন্ত্রাস

এসিড সন্ত্রাস

দেশে এসিড সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটছে। সাধারণত জমি, সম্পত্তি ও টাকা পয়সা নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক ঝগড়া, প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, যৌতুক ইত্যাদি কারণে এসিড দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটছে। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর প্রকাশিত ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের দেওয়া পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ছাড়াও এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে, মেয়ে শিশু ও ছেলে শিশুদের ওপর। এই সময় ১৬৮ জন নারী এসিড-সন্ত্রাসের শিকার হন। এর বাইরে ৪৩ জন পুরুষ, ৩৬ জন মেয়ে শিশু এবং ১১ জন ছেলে শিশু এসিড সন্ত্রাসে আহত হয়। সমাজ থেকে এসিড সন্ত্রাস নির্মূল করতে হলে সর্বাগ্রে এর ব্যবহার কঠোর নজরদারির আওতায় এনে তা নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

পাশাপাশি এসিড সংক্রান্ত মামলা দীর্ঘসূত্রিতা পরিহারের পাশাপাশি আইনের ফাঁক গলিয়ে অপরাধী যাতে পার পেয়ে না যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। এসিড সন্ত্রাসের হার অস্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে। এটি কখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে আবার কখনো কমছে। আর যে অভিভাবকদের ওপর এসিড নিক্ষেপ করা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে থাকা শিশুরা এসিড সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে। যে কোনো ঘটনাকে রাজনীতি করণের প্রবণতা আমাদের মধ্যে প্রবলভাবে বিদ্যমান। ফলে রাজনৈতিক পরিচয়ের সুবাদে অনেক অপরাধী খুব সহজেই পার পেয়ে যায়। এ জঘন্য কাজের সঙ্গে যুক্তরা যাতে রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো সুবিধা না পায়, সে ব্যাপারে রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা রাখা উচিত। আমরা আশা করব, এসিড সন্ত্রাসের ভয়াবহতা গুরুত্ব সহকারে অনুধাবন করে গণমানুষের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।