এসডিজি অর্জনের চ্যালেঞ্জ

এসডিজি অর্জনের চ্যালেঞ্জ

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ এ যাবত সন্তোষজনকভাবে এগিয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন, মাতৃ ও নবজাতক মৃত্যুর হার হ্রাস, পারিবারিকভাবে শিক্ষা গ্রহণে ও জ্বালানি ব্যবহারের সক্ষমতায় অগ্রগতি, বাল্য বিবাহ রোধে উন্নতি, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা ইত্যাদিতে উন্নতি আশাব্যাঞ্জক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব সুচকের অনেকগুলিতেই বাংলাদেশ তার বড় প্রতিবেশি ভারতের চেয়েও ভালো অবস্থানে আছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ এসডিজি অর্জনের  বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ফলে এ নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে ব্যাপক কাজ হচ্ছে এবং সব মন্ত্রণালয় এক যোগে তা বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে। গত রোববার রাজধানীতে এনইসি সম্মেলন কক্ষে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাংলাদেশের অগ্রগতি, প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসডিজি অর্জনে মোট ১৬৯টি লক্ষ্যের মধ্যে ৪১টি লক্ষ্য অর্জনে বিদেশি সহায়তার ওপর আমাদের নির্ভর করতে হবে।

ফলে এসব খাতে সাফল্য অর্জন অনেকাংশে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। পরিকল্পনা কমিশন সম্প্রতি এমডিজি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রকাশিত তাদের প্রতিবেদনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেছে। যেমন-তথ্য প্রাপ্তির ঘাটতি, কৃষি জমি রক্ষা, পরিবেশের ক্ষতিযুক্ত শিল্পায়ন, স্বল্প ব্যয়ে ও সময়ে সমস্যার সমাধান প্রাপ্তি অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সম্পদ আহরণ, জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, কর্মমুখী শিক্ষা ও সব সেবার গুণগত মান উন্নয়নের নিশ্চয়তা, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ ইত্যাদি। সরকার যেহেতু বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে সচেতন তাই আশা করা যায় এগুলোতে সময়মতো সমাধান করা যাবে এবং এসডিজিও নির্ধারিত সময়ে অর্জিত হবে। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে উন্নয়নশীল বিশ্বের পার্থক্য যেখানে আকাশ-পাতাল সে ক্ষেত্রে এ দুরত্ব কমিয়ে আনতে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। আমাদের দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার সুযোগ সবার জন্য সম্প্রসারিত করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। আমরা আশা করি, ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশের কাতারে যাওয়ার ঘোষিত অর্জনে সংশ্লিষ্ট সকল মহল সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাবে।