এসএসসি’র ফলাফল

এসএসসি’র ফলাফল

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার এবার বিগত পাঁচ বছরের তুলনায় সবচেয়ে কম। গত বারের চেয়ে এবার পাশের হার প্রায় ২ শতাংশ কম। যদিও ভালো ফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবার কিছু বেড়েছে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ১৬ লাখ ছাত্র-ছাত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। এবারের পাসের হার প্রায় ৭৮ শতাংশ, গত বছর এ হার ছিল ৮১ শতাংশের কিছু বেশি। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায়, ১৭টি বিষয়ের মধ্যে ১২টি বিষয়ের এমসিকিউ প্রশ্নের আংশিক ফাঁস প্রমাণ পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে কয়েকটি পরীক্ষা বাতিল করার দাবিও উঠেছিল। কিন্তু কোনো পরীক্ষা বাতিল হয়নি। কেউ কেউ বলছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কোনো প্রভাব দেখা যায়নি পরীক্ষার ফলে। উল্টো ফাঁস হওয়া প্রশ্নের পেছনে ছুটতে গিয়ে অনেকে শিক্ষার্থী ফল খারাপ করেছে বলে মনে করছেন তারা।

আবার অনেকে বলছেন এবার সঠিকভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়ন হওয়ায় পাসের হার কমেছে। আমরা মনে করি শিক্ষার মানোন্নয়নে উত্তরপত্র মূল্যায়ন সঠিক হয়েছে। এটাই হওয়া উচিত। এটাকে বিপর্যয় বলা যায় না। শিক্ষার মান বজায় রাখতে হবে। সরকার শিক্ষার অগ্রগতির জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহ, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদান, অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা উপকরণ সুলভ করা, ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদানসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ অনেক বছর ধরেই চলছে। এর সুফলও মিলতে শুরু করেছে। সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে এখনও আমাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। এ জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে। আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে এই পাসের হারের সাথে ভবিষ্যৎ কর্মমুখী জীবনে যেন একটি সুষ্ঠু সমন্বয় থাকে। এ ছাড়া প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতে মান সম্মত শিক্ষাদান নিশ্চিত হয় সে ব্যাপারে সরকারকে যতœবান হতে হবে। উত্তীর্ণ সবার জন্য উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা দরকার। এখান থেকেই কেউ যেন ঝরে না যায়, সেই চেষ্টা করতে হবে। আর কোনো অবস্থাতে যেন শিক্ষার মান নিম্নমুখী না হয় তা সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। যে করেই হোক এই মেধাকে সুন্দর করে পরিচর্যার মাধ্যমে কাজে লাগাতে হবে।