এম আব্দুর রহিম মরেও অমর হয়ে রয়েছেন মানুষের অন্তরে ,স্পীকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী

এম আব্দুর রহিম মরেও অমর হয়ে রয়েছেন মানুষের অন্তরে ,স্পীকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী

দিনাজপুর অফিস: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে এম আব্দুর রহিম নিজের জীবনকে উৎসর্গিত করেছিলেন একটি স্বাধীন দেশ ও একটি জাতীয় পতাকার জন্য। আজ সে দেশেই আমরা মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছি। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে জন্ম নিয়েও এম আব্দুর রহিম মানুষের কল্যাণে যে কাজ করে গেছেন তা আজ অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর ব্যক্তিগত কোনো চাহিদা ছিল না বলেই মরেও তিনি অমর হয়ে রয়েছেন মানুষের অন্তরে। এই প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে এম আব্দুর রহিমের স্মরণসভায় দাঁড়িয়ে থেকে সভা শুনা তারই প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ও কর্ম পরিকল্পনায় মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। কৃষি, শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি, খেলাধুলায় উন্নত হওয়ায় জাতিসংঘ থেকে আমাদের এ দেশকে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশে ঘোষণা করা হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের শান্তি ও স্বস্তি ফিরে এসেছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২১ সালে মধ্যবিত্ত ও ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত করতে নতুন প্রজন্মকে এম আব্দুর রহিমের মতো সততা, নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে। হতে হবে আর্দশিক।  
গতকাল শুক্রবার দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে মরহুম এম আব্দুর রহিমের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর ঐতিহাসিক স্মরণসভায় মরহুমের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন স্পীকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী।
মরহুমের জৈষ্ঠ্যপুত্র সুপ্রীম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, অর্থের প্রতি আমার পিতার কোন ধরনের লোভ-লালসা ছিল না। নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে তিনি আজীবন সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের সেবা করেছেন। এম আব্দুর রহিম  মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে জনগণের জন্য লড়াই করে গেছেন।অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ৭১টিভির প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু বলেন, বঙ্গবন্ধু যে বীজ রোপন করে গেছেন সেই রোপন আজ প্রবাহমান তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার চিন্তা, চেতনা মানুষকে ভালবাসা। এম আব্দুর রহিম যে বীজ রোপন করে গেছেন সে বীজ থেকে এম ইনায়তুর রহিম ও ইকবালুর রহিম যারা শুধু মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম দেশের, সততা, নিষ্ঠা আজ প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে বলেন, লোভলালসায় মানুষ আজ বিভোর। এম আব্দুর রহিমের আর্দশ ও নীতিকে অনুসরণ করে নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে হবে। তা হলেই দুর্নীতি ও সন্ত্রাস মুক্ত বাংলাদেশ গড়া যাবে।

মরহুমের কন্যা স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত মহাসচিব অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, আমার পিতার সততা, নিষ্ঠা ও নৈতিকতা আজ আমাদের পথ নির্দেশক হবে। তিনি কোনো দিন সততা ও নৈতিকতার সাথে আপোষ করেনি। এসময় মরহুমের কনিষ্ঠ পুত্র জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি আবেগাপ্লুত কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এম আব্দুর রহিম সমাজকল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের সম্মানিত সভাপতি আজিজুল ইসলাম জুগলুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচীব বাবু চিত্ত ঘোষের সঞ্চালনে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহামুদুল আলম, জেলা ও দায়রা জজ আজিজুর রহমান ভুঁইয়া, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরী, পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম, আইনজীবি সমিতির সভাপতি নুরুজ্জামান জাহানি, প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বরপ কুমার বকশী বাচ্চু, বিএমএ’র সভাপতি ডা. ওয়ারেস, সদর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ইমদাদ সরকার প্রমুখ।
স্মরন সভায় মরহুমের ছোট ছেলে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, জেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাড. আব্দুল লতিফ, সাবেক মহিলা এমপি সুলতানা বুলবুল, আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তহিদুল হক সরকার, শহর আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রায়হানুল কবীর সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক একেএম রাজু, সদর উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন, জেলা মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদক তারিকুন বেগম লাবুন, আ’লীগ নেতা আকতারুজ্জামান, যুব লীগের জেলা সভাপতি রাশেদ পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আবু ইবনে রজব, সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া জাকির, শহর স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক রেজওয়ানুর রহমান পলাশ, এমবিএসকের প্রধান নির্বাহী রাজিয়া সুলতানা, শহর মহিলালীগের আহ্বায়ক খ্রিস্টিনা লাভলী দাস, যুগ্ম আহ্বায়ক সেহেলী আকতার ছবি, এম আব্দুর রহিম সমাজকল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের কার্যকরি সভাপতি সফিকুল হক ছুটু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।