এফডিসি কাঁদলো বুলবুলের বিদায়ে

এফডিসি কাঁদলো বুলবুলের বিদায়ে

বাংলা গানের দিকপাল আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। দেশের গান, আধুনিক গানের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গানেও তিনি ছিলেন দুর্দান্ত সফল একজন গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। তার হাত ধরে ঢাকাই সিনেমা পেয়েছে কালজয়ী অসংখ্য গান।

তিনি আজীবন চলচ্চিত্রের গানকে নিজের জন্য আশির্বাদের ভেবেছেন। চলচ্চিত্র ও এ অঙ্গনের মানুষদের ভেবেছেন প্রাণের চেয়ে প্রিয়। বহুবার তার পায়ের ধুলো নিয়েছে এফডিসির চত্বর। 

কিন্তু আর কখনোই তাকে দেখবে না চলচ্চিত্রের কারখানাটি। কোনোদিনই আর পা পড়বে না তার এফডিসিতে। নিথর দেহে শেষবারের মতো তিনি ঘুরে গেলেন। চলচ্চিত্রের মানুষদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বিদায় নিয়ে গেলেন চিরতরে। শান্ত নিথর এফডিসির বাতাসে যেন চাপাকান্না ছিলো লুকানো। প্রিয়জনকে চিরদিনের মতো বিদায়ের বেদনা মাখা সেই কান্না।

দুপুর ২টায় আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মরদেহ নিয়ে আসা হয় এফডিসিতে। এখানে অনুষ্ঠিত হয় তার দ্বিতীয় জানাজা। এফডিসির মসজিদের ইমামের নেতৃত্বে এই নামাজে অংশ নেন চিত্রনায়ক আলমগীর, বরেণ্য গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, চিত্রনায়ক রিয়াজ, জায়েদ খান, প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম খসরু প্রমুখ। 

নামাজ শেষে চলচ্চিত্রের মানুষেরা বুলবুলের স্মৃতিচারণ করেন। তাদের সেই স্মৃতিচারণ ছিলো অশ্রুসিক্ত।

এফডিসিতে জানাজা শেষে বুলবুলের লাশবাহী গাড়িটি এখন মিরপুরের পথে। উদ্দেশ্য শহীদ বুদ্ধিজীব কবরস্থান। সেখানেই চিরনিদ্রায় যাবেন মুক্তিযোদ্ধা ও গানের কিংবদন্তি পুরুষ আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সঙ্গীতজ্ঞ ও মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জোহর নামাজের পর তার এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার বেলা পৌনে ১১টায় বুলবুলের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। ১১টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে শহীদ মিনারের পাদদেশে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হয় মরদেহ।

বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষ তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর ১২টা ৪০ মিনিটে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। নিরবতা শেষে তার মরদেহ ঢাবির উদ্দেশে রওনা দেয়। 

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে আফতাবনগরের নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৬৩ বছর বয়সী বরেণ্য এই সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আমার গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘আমার বুকের মধ্যখানে মন যেখানে হৃদয় যেখানে’, ‘তোমায় দেখলে মনে হয়’, ‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে’, ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’, ‘আম্মাজান’ প্রভৃতি।

তার সুর করা গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘সব ক’টা জানালা খুলে দাও না’, ‘সেই রেললাইনের ধারে মেঠো পথটার পাড়ে দাঁড়িয়ে’, ‘একতারা লাগে না আমার দোতরাও লাগে না’, ‘ও মাঝি নাও ছাইড়া দে’, ‘সুন্দর, সুবর্ণ, তারুণ্য, লাবণ্য’ ‘মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানি মাসি হতে দেব না’ প্রভৃতি। এ ছাড়াও তার লেখা, সুর করা ও গাওয়া অসংখ্য গান রয়েছে।

কাজের স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।