এডিস মশার আগ্রাসন

এডিস মশার আগ্রাসন

ডেঙ্গু নিয়ে বেশ কয়েক বছর যাবত জনমনে যে স্বস্তির ভাব বিরাজমান ছিল, তা আবারও হুমকির মুখে পড়েছে। দেশের অন্যত্র পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হলেও রাজধানী ঢাকার পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করা হয়েছে গণমাধ্যমে। দেশে ডেঙ্গুতে বিগত ১৮ বছরের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে ২০১৮ সালে। শুধু এ বছরই ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ২০জনের ওপর। গণমাধ্যমের আরেক খবরে বলা হয় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে সাত হাজারের বেশি ব্যক্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। এর মধ্যে নয় জনের বয়সই ১২ বছরের কম। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা বলছেন, গত ১৫ বছরের মধ্যে এ বছরই আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশ বিস্তারের জন্য যেমন জমাটবদ্ধ পানি দায়ী, তেমনি দায়ী মানুষের অসচেতনতা। যেখানে-সেখানে ডাবের খোসা, বোতল, ক্যান, পরিত্যক্ত টায়ার বা বিভিন্ন পাত্রে পানি ধারণ করা।

বাসাবাড়িতে ফুলের টবে জমে থাকা পানি সহ আরো অনেকভাবেই আমরা এডিস মশার বংশ বিস্তারে সহায়তা করছি। এ জন্য কোনোক্রমেই নিজেরাও এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়ে নিজ নিজ বাসাবাড়ির জমাটবদ্ধ পানি অপসারণ করা উচিত। বাড়ির সংলগ্ন ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনাকে পৌরসভার সহায়তায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা দরকার। অতএব, এই মশা নির্মূলে জনসম্পৃক্ততা ও জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নাই। ইতিপূর্বে ডেঙ্গুর আগ্রাসন যে সফলভাবে রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল, তার মূলেও ছিল সমন্বিত উদ্যোগ। মশার উৎস তৈরি করা থেকে যেমন বিরত থাকতে হবে, তেমনি সে রকম উৎস থাকলে নিজ উদ্যোগে তা ধ্বংস করতে হবে। মশা নিধন কার্যক্রম গতিশীল ও প্রশ্নমুক্ত করার দায়-দায়িত্ব যাদের, তাদের জবাবদিহি-দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাও দরকার।