এটিএন বাংলায় বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষার নাটক ‘সোনাভান’ শুরু

এটিএন বাংলায় বগুড়ার আঞ্চলিক  ভাষার নাটক ‘সোনাভান’ শুরু

স্টাফ রিপোর্টার : এটিএন বাংলায় বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষায় প্রথম ধারাবাহিক নাটক “সোনাভান” এর প্রচার শুরু হয়েছে। ঢাকার অভিনয় শিল্পীদের সাথে নাটকটিতে যুক্ত হয়েছে বগুড়ার কয়েকজন নাট্যকর্মী। সোনাভান নাটকটির নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা শারমীন জোহা শশী। নাটকটিতে মূলত পূর্ব বগুড়ার সারিয়াকান্দি-সোনাতলা অঞ্চলের ভাষা উঠে এসেছে। বগুড়ার দর্শকরা নিজেদের আঞ্চলিক ভাষায় ধারাবাহিক নাটক পেয়ে বেশ উচ্ছসিত।  প্রতি রোববার এবং সোমবার রাত সাড়ে ১১ টায় ধারাবাহিক নাটকটি নিয়মিতভাবে প্রচারিত হচ্ছে। তৌফিক হাসান ময়নার মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক এই গল্পটিকেই ধারাবাহিক হিসেবে এবার দর্শকের সামনে আনলো এটিএনবাংলা।  সোনাভানরা দুই বোন দুই ভাই। সোনা সবার ছোট।

বড় ভাই হাতেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। ছোট ভাই কাশেম গ্রামের বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বেড়ায়। বড় বোন তারা এসএসসি পাশ করেছে, সে পড়তে চায় কিন্তু চাচা সব্দল তাকে বিয়ে দেবার জন্য ভালো পাত্র খুঁজছে। সোনাভানের বাবা এবং মা মারা যাওয়ায় তারা চাচা সব্দলের সাথে থাকে। সব্দল গ্রামের চেয়ারম্যান। মুক্তিযুদ্ধের সময় সব্দল গ্রাম রক্ষার জন্য শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হয়। বড় ভাইয়ের ছেলে হাতেম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরে মুক্তি বাহিনীতে যোগ দেয়। এদিকে সহজ সরল ছেলে কাশেমকে সব্দল নিজের কাজে লাগায়। গ্রাম রক্ষা কমিটি নামে কাশেমকে দায়িত্ব দেয় মিলিটারিদের কথা মত হিন্দু জনগোষ্ঠী তাড়ানো ও মুক্তি বাহিনীর বিপরীতে কাজ করার। সব্দল নিজের ছেলে তাহেরকে সব কিছু থেকে আলাদা রাখে। তাহের ভালোবাসে সোনাকে। তার বাবা মাও চায় যে, সোনা তাদের ছেলের বউ হোক। সব্দল মুক্তিযোদ্ধা হাতেমকে কাশেমের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দেয়। সব্দল ষড়যন্ত্র করে দুইভাইকে অস্ত্রসহ মুখোমুখি করে দেয়।

 তারা  দুজন দুজনকে খুন করে। সব্দল চেয়ারম্যান গ্রামবাসীকে জানায় হাতেম দেশদ্রোহী তাই তাকে কুকুর শিয়ালের জন্য ফেলে রাখা হবে। সোনা মৃত্যুদন্ডের ভয় না করে রাতে হাতেমের মৃতুদেহকে করবস্থ করার চেষ্টা করে কিন্তু সে ধরা পড়ে যায়। সব্দল তাকে ক্ষমা চাইতে বলে কিন্তু সোনাভান জানায় সে ক্ষমা চাইবে না। গ্রাম রক্ষা কমিটির নতুন দলনেতা মালেক ভাবে যদি ক্যাপ্টেনকে বোঝানো যায় যে সব্দল মুক্তিবাহিনীর মদদদাতা সোনাভানকে রক্ষা করছে তাহলে গ্রামের ক্ষমতা তার হাতে চলে আসবে। এদিকে তাহের ও তার মা আয়েশা সোনাকে তালা বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করে পালিয়ে যেতে চায়। কিন্তু সব্দল বন্দুক তাক করে তাদের উপর। ঠিক তখন গফুর সব্দলের হাত থেকে বন্দুক কেড়ে তার দিকে তাক করে, আর তাহেরদেরকে চলে যেতে বলে।

 সব্দল অবাক হয়ে যায় গফুরের আচরনে। গফুর তাকে জানায়, সে তার নুন খেয়েছে তাই তাকে প্রাণে মারবে না। সে তাহের, সোনা, আয়েশাকে পালাতে দেয় ও বন্দুক ফিরিয়ে দিয়ে নিজেও অন্ধকারে হারিয়ে যায়। সব্দল রাগে দুঃখ গফুরের উদ্দেশ্যে গুলি করে ফিরে দেখে মালেক ক্যাপ্টেনকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নাটকটি প্রযোজনা করছেন জুয়েল খান, মূলগল্প তৌফিক হাসান ময়না, কাহিনী বিন্যাস ও সংলাপ কাজী শুসমিন আফসানা, পরিচালনায় এস এম  শাহীন এবং আব্দুস শহীদ মিঠু, চিত্রগ্রহণ ইকবাল ইব্রাহিম পলাশ। নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন লুৎফর রহমান জর্জ, আফরোজা বানু, শারমিন জোহা শশী, ফারহানা মিলি, মীর সাব্বির,  অবিদ রেহান, সাঈদ বাবু, আহসানুল হক মিনু, কল্লোল চৌধুরী, মাহমুদা মেহেরুন্নবী মাহিন, বিধান কৃষ্ণ রায়, সিজুল ইসলাম, সবুজ চন্দ্র, মাহবুব সোবহানি, ফারুক হোসেন, আবু সাঈদ সিদ্দিকি, মির্জা আহসানুল হক দুলাল, মুনসুর রহমান তানসেন, শাজাহান আলী বাদশা, রফিকুল ইসলাম, হাসনুজ্জামান, সরণ, সামিউল প্রমুখ।