একুশ আগস্টের গ্রেনেড হামলা যদি সফল হতো

একুশ আগস্টের গ্রেনেড হামলা যদি সফল হতো

এড. মোঃ মনতেজার রহমান মন্টু : বর্তমান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রি পরিষদের বেশির ভাগ মন্ত্রী নতুন মুখ। আবার আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও বেশিরভাগ তরুণ নেতাদের    অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জনগণের কাছে প্রশ্ন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন নতুন মন্ত্রী দিয়ে কি দেশ চালাতে পারবেন শেখ হাসিনা? ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকা বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সন্ত্রাস বিরোধী জনসভায় সেই সময়কার বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা ট্রাকের উপর বক্তৃতা করাকালে একের পর এক যে গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছিল যদি সেই হামলা সফল হতো তাহলে ট্রাকের উপর থাকা শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী, সাজেদা চৌধুরী, শেখ সেলিম, জিল্লুর রহমান, তোফায়েল আহম্মদ, আমীর হোসেন আমু, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, আব্দুল জলিল, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামাল আহমদ মজুমদারসহ উপস্থিত ২৯ জন সিনিয়র নেতারা মারা যেতেন। অপর গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমান, ঢাকার সাবেক মেয়র মোঃ হানিফসহ ২৪ জন নিহত হন এবং অসংখ্য নেতা কর্মি আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্টে বঙ্গবন্ধু, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনিকে হত্যা করা হয়। ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে সিনিয়র নেতা ও মন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন আহম্মেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও কামরুজ্জামান হেনাকে হত্যা করা হয়। যদি সত্যি সত্যি ২১ আগস্ট ট্রাকের উপর গ্রেনেড বিস্ফোরণ হতো তাহলে ২০০৭ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের কে হতেন এমপি, কে হতেন প্রধান মন্ত্রী, কে হতেন কে মন্ত্রী? এই বিষয়টি শেখ হাসিনা উপলব্ধি করেই তার মন্ত্রী পরিষদে এবং তার দলে নতুনদের সুযোগ দিয়েছেন বলে বুদ্ধিজীবী মহল মনে করেন।  

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নাম পরিবর্তন করে ইসলামী প্রজাতন্ত্রী রাখা হয়েছিল। ২০০১ সালেও বেশ কয়েকটি উদ্দেশ্যে নিয়ে ক্ষমতায় এসেই পাকিস্তানের মত বাংলাদেশকে ১টি ইসলামী রাষ্ট্র করা, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে এমন লোকদের চিহ্নিত করা। ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের জন্য ২০০৪ সালের ১৭ আগস্টে বাংলাদেশের ৬৩ জেলার ৫২৫ টি স্থানে একসাথে রিমোর্ট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার নামে মানুষের তৈরি আইন আদালতকে প্রথমে টার্গেট করে। এজন্য ইসলামী ঐক্যজোটের নেতাদের শ্লোগান দিতে দেখা গেছে ‘আমরা সবাই তালেবান-বাংলা হবে আফগান’। মূলত রাষ্ট্র পরিচালিত হতো গণভবন বঙ্গভবনের পরিবর্তে হাওয়া ভবন থেকে। ২০০৪ সালে ২১ আগস্টের পর ৩ অক্টোবর লক্ষীপুর, চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম জেলা আদালতে জেএমবি আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণে যে সকল নেতা গ্রেফতার হয়েছে সবাই জামাত শিবির কর্মি বলে স্বীকার করেছে। শুধু তাই নয় ২৯ নভেম্বর গাজীপুর আইনজীবী সমিতি কার্যালয়ে গ্রেনেড হামলায় বেশ কয়েকজন আইনজীবী মৃত্যুবরণ করেন এবং অনেকে আহত হয়ে এখনও পঙ্গুত্ববরণ করছেন। তার আগে ঝালকাঠিতে ২ জন সহকারী জজ আদালতে যাওয়ার পথে গাড়িতে ওঠার সময় বোমা হামলায় নিহত হন সোহেল চৌধুরী ও জগন্নাথ পাঁেড়। সারা দেশে আইনজীবী ও বিচারকদের আন্দোলনের চাপে বিচারে বগুড়ার গাবতলী সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ভাই ও আব্দুর রহমানের ফাঁসি হয়েছে।

এই জঙ্গি বাংলা ভাই ও আব্দুর রহমান এর নেতৃত্বে নাটোর, রাজশাহী, বাঘমারাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মিছিল করে তাদের চেতনার বিরোধী লোকদের ধরে ধরে এনে গাছের সাথে উল্টো করে লটকায়ে হত্যা করে রাখতো। সেই সময় পুলিশ প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করেছে এবং মিছিল পাহারা দিয়েছে। আজকের সেই ওসি, সেই এসপি আছেন, সেই ডিসি আছেন। শুধুমাত্র ক্ষমতা বদল হয়েছে মাত্র। কই এখন তো জঙ্গিরা মিছিল করতে পারে না? ঘরের গৃহস্থ যদি ঠিক থাকে তেলের মধ্যে যদি ভূত না থাকে তাহলে রাষ্ট্র পুলিশ সঠিকভাবে চলবে। ২০০১ সালের বিএনপি জামাত চার দলীয় জোট সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করার জন্য প্রথম আঘাত করেছিল শেখ হাসিনাকে। এজন্য অবসর এবং ট্রেনিং প্রাপ্ত সেনা সদস্যদের দ্বারা ২১ আগস্টের জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। জামাত নেতা মতিউর রহমান নিজামী প্রথমে কৃষি, পরে শিল্পমন্ত্রী থাকাকালে চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্রে ধরা পড়েছিল তার মধ্যে যে আর্জেস গ্রেনেড পাওয়া গিয়াছিল, ঠিক ২১ আগস্টের শেখ হাসিনার উপরে হামলার গ্রেনেড একই। হওয়া ভবনে পরিকল্পনা প্রমাণিত হওয়ায় সেই সময়কার স্বরাষ্ট্র প্রতি মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এর রায়ে ফাঁসির আদেশ হয়েছে। আর মাস্টার মাইন্ড হাওয়া ভবনের প্রধান তারেক রহমানের হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদন্ড। ২০০৪ সালের ২১ শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা যদি সফল হতো শেখ হাসিনাসহ সিনিয়র নেতারা যদি নিহত হতো, তবে আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ পেতাম না। বিশ্বের কাছে এ দেশ হতো জঙ্গি রাষ্ট্র। যার পরাভোগ পাকিস্তান উপভোগ করছে।
লেখক ঃ  সাবেক স্পেশাল পিপি এবং কলামিষ্ট
০১৭১১-৪২৫৯৮১