একটি লাশ বাঁচাতে পারে ৮টি জীবন

একটি লাশ বাঁচাতে পারে ৮টি জীবন

রাজধানীসহ সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী রোগীদের মাধ্যমে প্রতিদিন ২০০ মানুষকে ‘নতুন জীবন’ দান করা সম্ভব! এমন তথ্য শুনলে অনেকেই আষাঢ়ে গল্প বলে মনে করতে পারেন। মৃত মানুষ আবার কীভাবে মানুষকে নতুন জীবন দিতে পারে? কিন্তু বাস্তবে এমনটা সম্ভব বলে জানিয়েছেন কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং সোসাইটি অব অর্গান ট্রান্সপ্লান্টেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদ।

মৃত মানুষ কিভাবে নতুন জীবন দান করতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে রাজধানীসহ সারাদেশে অর্ধশতাধিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০০ রোগী ভর্তির থাকছে। তাদের মধ্যে প্রতিদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্তত ২৫ জন রোগী মৃত্যুবরণ করছে। আইসিইউতে কর্তব্যরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামতের ভিত্তিতে ব্রেন ডেথ ঘোষিত একজন রোগীর দেহ থেকে চোখ, কিডনি, যকৃত, ফুসফুস, অগ্নাশয়, মূত্রগ্রন্থি ও খাদ্যনালী সংগ্রহ করে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কমপক্ষে ৮ জন মানুষকে নতুন জীবন দান সম্ভব।


তিনি বলেন, সে হিসেবে প্রতিদিন আইসিইউতে মৃত্যুবরণকারী ২৫ জন রোগীর মাধ্যমে ২০০ মানুষকে নতুন জীবন দান সম্ভব। বিশেষ করে কিডনি বিকল রোগীদের কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নতুন জীবন দান সম্ভব।

অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞানুসারে ‘ব্রেন ডেথ ইজ আল্টিমেট ডেথ’। এ ক্ষেত্রে আইসিইউতে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ব্রেন ডেথ ঘোষণা ও সার্টিফিকেট ইস্যু করতে পারেন। ২০১৮ সালে হালনাগাদকৃত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনেও ব্রেন ডেথ সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, মৃত রোগীর দেহ থেকে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অন্তরায় ধর্মীয় বাধা। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ রোগীর স্বজন ধর্মীয় দোহাই দিয়ে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দান করতে চান না। কিন্তু ধর্মীয়ভাবে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দানে কোনো বাধা নেই।

এ ক্ষেত্রে রোগীর স্বজনদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে এবং তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মর্যাদা প্রদানের মাধ্যমে মরণোত্তর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দানে উৎসাহিত করতে হবে বলেও জানান তিনি।