একজন শিরীন আলমের গল্প

রাজধানীর উত্তরার শুটিং পল্লীর এ বাড়ি ও বাড়ি প্রায়শই তার দেখা মিলে। প্রতিদিনই তিনি কোন না কোন নাটকের কাজে ব্যস্ত। সেদিনও তিনি ব্যস্ত ছিলেন আবুল হায়াত পরিচালিত ঈদ বিশেষ নাটক ‘অমিত্রাক্ষর’র নাটকের কাজে। যেখানে সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন আবুল হায়াত, ইরফান সাজ্জাদ ও মেহজাবিন চৌধুরী। এই নাটকের শুটিং লোকেশনেই কথা হয় গুনী এই অভিনেত্রীর সঙ্গে। ঘটনাটার ৭ মে ঠিক সন্ধ্যা নামার আগে। স্বপ্নীল টু শুটিং হাউজে তিনি তার চরিত্র মনোযোগ দিয়ে বারবার পড়ছিলেন। আর আমি ঠিক তখনই সেখানে উপস্থিত। কুশল বিনিময় শেষে দোতলা থেকে নীচে ডেকে আনি তাকে। মোহসীন আহমেদ কাওছারের ক্যামেরায় কথা বলার আগে কিছু ছবি তুলে নিলাম। একজন শিল্পীকে পাঠকের কাছে তাকে নিয়ে যথযথভাবে তুলে ধরার জন্য একটি সুন্দর স্থির চিত্রও খুব গুরুত্বপূর্ণ। শিরীন আলমও তাই বেশ আন্তরিকতা নিয়ে ছবি তোলার জন্য সময় দিলেন। আর ছবি তোলা শেষে গল্পে গল্পে জানা গেলো অনেক কথা। ২০০০ সাল থেকে তিনি টিভি নাটকে নিয়মিত অভিনয় করছেন। অবশ্য তার আগে তিনি ‘পদধ্বনি’ নাট্যদলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন দশ বছর এবং ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’র সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এক বছর। ‘পদধ্বনি’র হয়ে তিনি ‘মামা মন্ত্রী হবেন’ এবং ‘বাবার বিয়ে’ নাটকে অভিনয় করেছেন। মোমিনুর রশীদ মিল্লাতের নির্দেশনায় তিনি প্রথম ‘অভিশাপ’ নাটকে অভিনয় করেন।

 সেই থেকেই টিভি নাটকে তার পথচলা শুরু। এরপর তিনি আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশনায় ‘বাবা’,‘সংসার’, ‘জোয়ার ভাটা’সহ আরো বহু নাটকে অভিনয় করেন। জাহিদ হাসানের নির্দেশনায় ‘লাল নীল বেগুনী’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেও তিনি আলোচনায় ছিলেন। আবুল হায়াতের নির্দেশনায় তিনি প্রথম অভিনয় করেন কাজী নজরুল ইসলাম’র ‘ঝিলিমিলি’ নাটকে। এরপর একই পরিচালকের নির্দেশনায় বহু নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। সালাহ উদ্দিন লাভলুর ‘ঘরকুটুম’,‘ঢোলের ’,‘হাড়কিপ্টে’,‘শিলবাড়ি’ নাটকে অভিনয় করেও দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন শিরীন আলম। তারিকুল ইসলামের ‘গাঁও গেরামের মানুষজন’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেও প্রশংসিত হন শিরীন আলম। শিরীন আলম এই মুহুর্তে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন যারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সৈয়দ শাকিলের ‘প্রেম নগর’,‘ সঞ্জিত সরকারের ‘মজনু একজন পাগল নহে’,আশীষ রায়ের ‘ভালোবাসার রং’। চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।

 তৌকীর আহমেদ’র ‘দারুচিনি দ্বীপ’, গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’ , চাষী নজরুল ইসলামের ‘শাস্তি’, শাহীন সুমনের ‘লাভ ম্যারেজ’, অনন্য মামুনের ‘ভালোবাসার গল্প’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। শিরীন আলমের জন্ম ঢাকাতেই। তার বাবা সৈয়দ জয়নাল আবেদীন ও মা মনোয়রা আবেদীন। ১৯৮২ সালের ৬ জুন এস এম শাহ আলমকে বিয়ে করেন তিনি। তার তিন পুত্র শাওন, শোভন ও প্রান্ত। এই নিয়েই তার সুখের সংসার। অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিয়ে দারুণ তৃপ্ত তিনি। শিরীন আলম বলেন,‘ কখনোই মনে হয়নি যে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিয়ে ভুল করেছি। সবার ভাগ্যে অভিনয় করার সুযোগ হয়ে উঠেনা। আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং সবার সহযোগিতায় আমি অভিনেত্রী হতে পেরেছি, এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। সাধারণ মানুষের ভালোবাসার আমি মুগ্ধ হই সবসময়। অভিনয় করে তাদের ভালোবাসা প্রতিনিয়তই পাই আমি। একজন সাধারণ মানুষ হলে এটা সম্ভব ছিলো না। আমি আমৃত্যু অভিনয় করে যেতে চাই।’ শিরীন আলম তার অভিনয় জীবন এবং সংসার জীবন দুটোতেই পরিপূর্ণ। তাই পৃথিবীতে একজন শিরীন আলম হয়ে আসার সার্থকতা খুঁজে পান তিনি যখন নীরবে তা নিয়ে একা একা ভাবেন। হয়তো অনেক কিছুই তার জানা হতো না যদি না তিনি নিজেকে অভিনয়ের সাথে সম্পৃক্ত করতেন। তাই শিল্পী জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা তার বারবার। ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার।