এক হারেই বিদায় বাংলাদেশের

এক হারেই বিদায় বাংলাদেশের

আমিনুল ইসলাম :

 পাঁচদিনের মধ্যে তিন ম্যাচ। সবশেষ কবে বাংলাদেশ খেলেছিল? টানা দুই ম্যাচে জয়, সবশেষ কবে বাংলাদেশ পেয়েছিল? এই স্মৃতি ঘাটতে গেলে মস্তিস্কের বিলিয়ন বিলিয়ন নিউরনকে তিন থেকে পাঁচ বছর পেছনে ঠেলে নিয়ে যেতে হবে। টানা দুই ম্যাচে জয় নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু এক ভুলে, এক হারে সবশেষ। ঘরের মাঠে দর্শক হয়ে গেল বাংলাদেশ।

প্রথমে ভুটানের বিপক্ষে, পরে পাকিস্তানের। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দুই ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে গোলরক্ষক মো. শহীদুল আলমের ভুলে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে আর এক পা দিতে পারল না। তপু বর্মন-সুফিলদের সেমিফাইনালে দেওয়া পা-টি টেনে নামিয়ে দিয়েছে নেপাল। টানা দুই ম্যাচ জিতে উড়তে থাকা বাংলাদেশকে মাটিতে নামিয়ে এসেছে সুনীল বাল-নউগ শ্রেষ্ঠারা।
 বাংলাদেশ তিন ম্যাচের দুটিতে জিতে নেপাল ও পাকিস্তানের সমান ৬ পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিদায় নিয়েছে সাফের দ্বাদশ আসর থেকে। এ বিদায় সত্যিই দূর্ভাগ্যজনক, বেদনাদায়ক। নিঃসন্দেহে হতাশাজনক।

অথচ আজ শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ম্যাচের শুরুটা কী দারুণই না করেছিল বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমণ শানিয়েছে তারা। যেখানে ড্র করলেই বাংলাদেশ সেমিফাইনালে যেতে পারে, সেখানে তারা জয়ের জন্যই খেলেছে। খেলোয়াড়দের শারীরিক ভাষা ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরা। কিন্তু ম্যাচের ৩৩ মিনিটে গোলরক্ষক শহীদুল আলমের ভুলে গোল হজম করার পরই যেন বদলে যেতে থাকে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের শারীরিক ভাষা। তেল ফুরিয়ে যাওয়া প্রদীপের মতো আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যেতে থাকে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ধার। তর তর করে নেমে যেতে থাকে পারফরম্যান্সের পারদ। মামুনুল-সুফিলরা যেন নিজেদের শরীরকেই টেনে নিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। সেই সুযোগে নেপাল বাংলাদেশকে চেপে ধরে খেলে। আর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আরো একটি গোল আদায় করে নেয়।
নেপালের হয়ে ৩৩ মিনিটে গোল করেন তাদের ১০ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় সুনীল বাল। এ সময় তার নেওয়া ফ্রি কিক ধরেও ধরতে পারেননি শহীদুল। বল তার হাত ফসকে জালে আশ্রয় নেয়। আর শেষ মুহূর্তে নউগ শ্রেষ্ঠা সতীর্থ সুনীল বালের বাড়িয়ে দেওয়া বল নিঁখুত শটে জালে জড়িয়ে বাংলাদেশের পরাজয়ের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। আর নেপালকে তোলেন সেমিফাইনালে। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সাফের সেমিফাইনালে উঠল নেপাল।

এই জয়ের ফলে ৩ ম্যাচের ২টিতে জিতে নেপালের পয়েন্ট ৬, গোল ব্যবধান +৫। তারা গ্রুপচ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ চারে নাম লিখিয়েছেন। ৩ ম্যাচের ২টিতে জিতে পাকিস্তানের পয়েন্ট ৬, গোল ব্যবধান +৩। তারা গ্রুপ রানার্স-আপ হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ১৩ বছর পর। ৩ ম্যাচের ২টিতে জিতে বাংলাদেশের পয়েন্টও ৬। কিন্তু গোল ব্যবধান মাত্র +১। এখানেই পিছিয়ে গেল বাংলাদেশ। বিদায় নিতে হল ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে।
 

এমন বিদায় মানতে পারেনি দর্শক-সমর্থকরা। তাইতো ম্যাচের শেষদিকে তারা দুয়ো দিতে থাকে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের। ক্ষোভের প্রকাশ করতে গিয়ে বোতল ছুড়ে মারতে থাকে মাঠে। আর ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বাইরে গিয়েও ভুয়া ভুয়া বলে দুয়ো দিতে থাকে। তারা যে উল্লাস করতে করতে, বাংলাদেশ বাংলাদেশ স্লোগান দিতে দিতে ঘরে ফিরতে চেয়েছিল। তাদের প্রত্যাশা প্রাপ্তিতে রূপ নেয়নি ভুলে। যে ভুল খেলারই অংশ। গোলরক্ষকরা যা করতেই পারে। বাস্তবতা মেনে নিয়ে সমর্থকরা আশায় বুক বাঁধতে পারে ঘরের মাঠে পরবর্তী আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের জন্য।