এই খানে এক নদী ছিল জানলো না তো কেউ!

এই খানে এক নদী ছিল জানলো না তো কেউ!

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : ‘এই খানে এক নদী ছিল, জানলো নাতো কেউ নদীর কূল ছিলনা, জল ছিলনা, ছিল শুধু ঢেউ’। পথিক নবীর এই গানটির মতো অবস্থা দাঁড়িয়েছে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাঙালি নদী। এক সময় বাঙালি নদীতে যেখানে চৈত্র বৈশাখ মাসে ৪০/৫০ ফুট পানি ছিল আজ সেখানে ধুধু বালুচর। সেই বালুচরে কৃষক গম, মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন ফসল ফলাচ্ছে। পুরো নদীটিই এখন ফসলের মাঠ। বগুড়া শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে সোনাতলা উপজেলার অবস্থান। যমুনা ও বাঙালি নদী ওই উপজেলাকে ঘিরে রেখেছে। এক সময় ওই নদীগুলোতে যেখানে ৪০/৫০ ফুট পানি থাকতো সেখানে উৎপন্ন হচ্ছে হরেক রকম ফসল। বিশাল নদীর বুক জুড়ে ওই এলাকার কৃষকেরা বোরো ধান, বীজতলা, ভুট্টা, গম, বাদাম, সরিষা, তিল, ধান, আলু, পিয়াজ, মরিচ সহ অর্থকরী ফসল ফলাচ্ছে। উপজেলার সোনাকানিয়া, নিশ্চিন্তপুর, চরমধুপুর, নামাজখালী, রংরাপাড়া, রানীরপাড়া, সাতবেকী, হলিদাবগা, পারবগা, শ্যামপুর, সর্জনপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, বাঙালী নদীটি দীর্ঘদিন যাবত খনন না করায় ধুধু বালুচর আর ফসলের মাঠে পরিনত হয়েছে।

এলাকাবাসী দাবি তুলেছে, স্বাধীনতার ৪৭ বছর অতিক্রম হলেও সোনাতলা উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনা, বাঙালি, সুখদহ নদীগুলো সরকারি ভাবে খনন না করায় নদীতে পানি সংকট দেখা দেয়। ফলে কৃষককে ফসল ফলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এক সময় কৃষক সুখদহ ও বাঙালি নদী থেকে টিউবওয়েল কিংবা শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি উত্তোলন করে ইরি-বোরোসহ বিভিন্ন ফসল ফলাতো। আজ সেই নদীগুলো খনন না করায় কালের বিবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছে তাদের সৌন্দর্য। এক সময় ওই নদীতে পানির গভীরতা ছিল। কৃষক কৃষি কাজের ফাঁকে ফাঁকে দল বেঁধে নদীতে মাছ শিকার করতে নামতো। এখন সেই নদীতে তীব্র পানি সংকট। এলাকাবাসী কৃষি ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে নদী খনন করা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান, পানি সম্পদ মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করেছেন। ওই উপজেলার কৃষকেরা আরও জানান, বগুড়ার সোনাতলা উপজেলাটি কৃষি প্রধান অঞ্চল। এই উপজেলার ৮৫ ভাগ মানুষ সরাসরি কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর বন্যার পর নদীতে পলি জমে। এরপর গম ও মিষ্টি আলু, মরিচ, ভুট্টার বাম্পার ফল হয়। এছাড়াও তারা আরও জানান, নদীতে ফসল ফলাতে রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না। উৎপাদন খরচ কম হয়। লাভ হয় বেশি। তারা আরও জানান, এক সময় কৃষকের ঘরে ছিল গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু ও নদীর মাছ। মানুষ ছিল সুখী সমৃদ্ধ। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সালাহ উদ্দিন সরদার জানান, সংশ্লিষ্ট উপজেলার ভূমিহীন মানুষগুলোকে প্রতিনিয়ত ভাগ্যের সাথে লড়াই সংগ্রাম করে বাঁচতে হয়। তাই তারা জীবন জীবিকার তাগিদে নদীর বুক জুড়ে বিভিন্ন ফসল ফলাচ্ছে। তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারিভাবে কৃষি অধিদপ্তর তাদেরকে বিভিন্ন সময় ফসলের বীজ, সার সরবরাহ করে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এমনকি নি¤œ আয়ের লোকজন নদীর বুকে ফসল উৎপাদন করে ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে সক্ষম হচ্ছে। নদীতে পলি জমার কারণে যেকোন ফসল ভালো উৎপন্ন হচ্ছে।