ঋণ আদায়ে পদক্ষেপ নিন

ঋণ আদায়ে পদক্ষেপ নিন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ চলে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ব্যাংকিং খাতের লুটপাট যেন কিছুতেই থামছে না। প্রতিদিনই কোনো না কোনো ব্যাংকের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির খবর প্রকাশ পাচ্ছে গণমাধ্যমে। দেশে এখন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি। ফলে এ খাতের বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, লুটপাট ও দুর্নীতির ঘটনাও বেড়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মাত্র দশ বছরেই ২ হাজার প্রভাবশালী ব্যক্তি দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬৬ হাজার কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। ঋণ হিসেবে নেওয়া এ টাকা বছরের পর বছর ফেরত দিচ্ছেন না তারা। ফলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানও এই অর্থ ফেরত পাচ্ছে না। অর্থ ঋণ আদালতের আশ্রয় নিয়েও টাকা আদায় করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত গত বুধবার জাতীয় সংসদে ১০ কোটি টাকার বেশি ঋণ খেলাপিদের একটি তালিকা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ গণমাধ্যমকে বলেন, এসব খতিয়ে দেখতে ব্যাংকিং কমিশন না হলেও তদন্ত কমিশন গঠন হওয়া জরুরি। ব্যাংকে যে টাকা সঞ্চিত থাকে তার মালিক সাধারণ মানুষ। এ অর্থ লুটপাট বন্ধে সরকারকে অবশ্যই কড়া হতে হবে। খেলাপির নাম প্রকাশ করাই শুধু নয়, তাদের কাছ থেকে খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে দেশবাসী তেমনটিই দেখতে চায়।