উৎসবমুখর হোক নির্বাচন

উৎসবমুখর হোক নির্বাচন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রায় সব দলের অংশগ্রহণেই হতে যাচ্ছে। বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিকল্প ধারা সহ বিভিন্ন দলের আহবানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর পুন:নির্ধারণ করা হয়েছে। বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলোর দাবি ছিল অবশ্য নির্বাচন এক মাস পেছানোর। তবে যেটুকু পিছিয়েছে তাতেই বিএনপি শিবিরেও দেখা দিয়েছে ভোটের আমেজ। দলটির নেতা-কর্মিদের মাঝে জাতীয় নির্বাচনের আমেজ দেখা ছিল দশ বছর পর। সোমবার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করেছেন বিএনপির চার শীর্ষ নেতা। তবে এর পেছনে সরকারের সদিচ্ছা যে নিয়ামক ভূমিকা রেখেছে, তাতে সন্দেহ নেই। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে প্রার্থী হতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে নেতা কর্মিরা ঢাকায় এসেছেন।

গত শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। গত সোমবার বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে নয়া পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। মনোনয়নপত্র কেনা উপলক্ষে উভয় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতা কর্মিদের প্রচন্ড ভিড় পরিলক্ষিত হয়। এ সময় দুই জায়গাতেই উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করে। অন্যান্য দলও মনোনয়ন ফরম বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে। প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংবাদ সম্মেলন থেকে ফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন ও মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ২০ দলীয় জোটও ভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। এখন থেকে নির্বাচন কমিশনকে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সব দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করতে সব ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।