উৎসব মুখর হোক নির্বাচনী পরিবেশ

উৎসব মুখর হোক নির্বাচনী পরিবেশ

এবারই প্রথম ইসিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ২৯৫ আসনে বিএনপির মোট ৬৯৬ জন এবং আওয়ামী লীগ ২৬৪ আসনে ২৮১টি মনোনয়ন পত্র জমা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ২৩৩টি, নিবন্ধিত অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে ১ হাজার ৩৫৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। মোট মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ৩ হাজার ৬৫টি। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র জমা পড়েছে ৪৯৮টি। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর অনুষ্ঠিত দশটি জাতীয় সংসদের কোনোটিতেই এত সংখ্যক ব্যক্তি প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি। এটা  স্বস্তিদায়ক খবর। বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে অনেক দিন ধরেই সন্দেহের দোলাচল ছিল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল তারা। তারা নেতৃত্বাধীন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেওয়ায় দোলাচলের অবসান ঘটে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রয়োজন সরকার ও নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে তৎপর হতে হবে। নির্বাচনে সব প্রার্থীর প্রতি সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে। কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব নয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়া যেন কোনোভাবেই বিতর্কিত না হয়- সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে খুব সতর্ক থাকতে হবে। আবার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষের সহযোগিতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। সহিষ্ণুতা চর্চা করতে হবে সব পক্ষকেই। নির্বাচনী সংস্থাগুলোর দায়িত্ব হবে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থা কায়েমে আন্তরিকতার পরিচয় দেয়া। কেননা, সেই অতীত থেকেই এ দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সব সময় চলে এসেছে। তাই এই ব্যবস্থার সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠায় আমাদের সবাইকে এক যোগে কাজ করতে হবে। আস্থা-বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে। এতে সব পক্ষেরই লাভ। আমরা আশা করি, সব দলের অংশগ্রহণে, নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং তা হবে বিতর্কের উর্ধ্বে।