উপকূলীয় জেলেরা বিক্ষুব্ধ

উপকূলীয় জেলেরা বিক্ষুব্ধ

বঙ্গোপসাগরে দুই মাস ৫ দিন বাগদা চিংড়ি সহ সকল ধরনের মাছ আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারির পর চরম সংকটে পড়েছেন ঘের মালিক ও চিংড়ি চাষিরা। আয় রোজগার বন্ধ থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় ১২ জেলার চার লক্ষাধিক জেলে পরিবার। এই প্রথম বারের মতো জ্যৈষ্ঠ থেকে আষাঢ় পর্যন্ত মাছ ধরার ভরা মৌসুমে সাগরে নামতে পারছে না জেলেরা,  ফলে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, ভান্ডারিয়া, বরগুনা, পাথরঘাটা, পটুয়াখালী, ভোলা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, লক্ষ্মীপুর সহ উপকূলবর্তী এলাকাগুলোর জেলে পল্লিতে চলছে হাহাকার। খেয়ে না খেয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিতে গত ১ জুন থেকে মৎস্যজীবীরা আন্দোলন শুরু করেছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে মানব বন্ধন, মিছিল সভা সমাবেশ, প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি, সড়ক অবরোধ করেছেন তারা। রবিবার ফৌজদারহাট এলাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রয়েছেন। আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। অভিযোগ করছেন, অসহায় ও বেকার জেলেদের পুনর্বাসনে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা একেবারে অপর্যাপ্ত। নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্তের পর এবার হঠাৎ করে ইলিশের মৌসুমে কেন এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো, তা বোধগম্য নয়। অতীতে এই সময়ে তাদের এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হয়নি। এবার এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তাদের জীবন-জীবিকায় বিরূপ প্রভাব পড়ার পাশাপাশি ইলিশ ধরতে না পারার ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। যদি যৌক্তিক কারণে এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়ে থাকে, তাহলে তা স্পষ্ট করার পাশাপাশি জেলেদের শুধু চালই নয় নগদ আর্থিক সহায়তাসহ বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি আমরাও চাই, কিন্তু জেলেদের কথাও ভাবতে হবে তারও আগে।