ঈশ্বরদীতে আলমারিতে শিশুর লাশ দাদা-দাদী ও পিতাসহ আটক ৪

ঈশ্বরদীতে আলমারিতে শিশুর লাশ দাদা-দাদী ও পিতাসহ আটক ৪

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় আতিকা জান্নাত নামের দেড় মাসের শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর আলমারিতে লুকিয়ে রাখার ১১ ঘন্টা পর ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নির্মম এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুটির বাবা আশরাফুল ইসলাম বাবু, দাদা আইয়ুব আলী খাঁন, দাদী সেলিনা খান ও বাবুর মামী জোসনা খাতুন কে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত শনিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে ঈশ্বরদী পৌর সভার ৬নং ওয়ার্ডের অরনকোলা গ্রামে লোমহর্ষক এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সকালে শিশুটি বাড়ি থেকে চুরি হয় বলেও প্রচার করে তার বাবা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে শিশুকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে। চতুর আশরাফুল ইসলাম বাবু মেয়ের সন্ধান চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার মেয়ে ও তার নিজের ছবি দিয়ে স্ট্যাটাস দেন।

এলাকাবাসী ও     
পুলিশ জানায়, শনিবার সকাল ১১টার সময় শিশুটির মা নিশি খাতুন বাড়ির ছাদে কাপড় নেড়ে দিতে গেলে সেই সুযোগে পাষন্ড পিতা আশরাফুল ইসলাম বাবু ও তার পিতা আইয়ুব আলী খাঁন, তার মা সেলিনা খাঁন মিলে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘরের আলমারিতে লুকিয়ে রাখে। পরে নিশি খাতুন ঘরে এসে তার মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুজি করতে থাকে। সে সময় মেয়েটি চুরি হয়েছে বলে প্রচার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। সে সময় শিশুটির বাবা আশরাফুল ইসলাম বাবুর অসংলগ্ন কথা-বার্তায় পুলিশের সন্দেহ হলে সাদা পোশাকের বেশ কয়েকজন পুলিশকে ওই বাড়ির প্রতি ‘বিশেষ নজর’ রাখতে বলা হয়। রাত ১০টার সময় পাবনা পুলিশ সুপার জিহাদুল কবীর পিপিএম, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জহুরুল হক ও ওসি আজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ঘরের আলমারির ভেতর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।

সে সময় ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে পাষন্ড পিতা আশরাফুল ইসলাম বাবু, দাদা আইয়ুব আলী খাঁন, দাদী সেলিনা খা্নঁ ও বাবুর মামী জোসনা খাতুন কে গ্রেফতার করে। এবিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবুল হাসেম জানান, নিজেরাই (বাবুসহ তার পিতা-মাতা) শিশুটিকে হত্যা করে সারাদিন আমাদের হয়রানি করিয়েছে। তাছাড়া পাশের বাড়ির লোকজনকেও ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আল্লাহ্র অশেষ মেহেরবাণীতে সত্য ঘটনা উৎঘাটন হলো। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জহুরুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রতিবন্ধী হওয়ায় শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য বাচ্চা চুরির নাটক সাজানো হয়। অভিযান চালিয়ে ঘরের আলমারির ভেতর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বাবা আশরাফুল ইসলাম বাবু, দাদা আইয়ুব আলী, দাদী সেলিনা খাঁন ও বাবুর মামী জোসনা খাতুন কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।