ঈশ্বরদীতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যা, স্বামী-শ্বাশুড়ি পলাতক

ঈশ্বরদীতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে  হত্যা, স্বামী-শ্বাশুড়ি পলাতক

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় সাথী আক্তার (২৪) নামের ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে তার মাদক সেবী স্বামী জহুরুল ইসলাম সরদার। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন তিনি। রোববার রাতে দাশুড়িয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর মাদ্রাসা পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাতেই ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। গতকাল সোমবার ময়না তদন্তের জন্য লাশ পাবনা মর্গে পাঠিয়েছে ঈশ্বরদী পুলিশ।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, প্রায় ১১ মাস পূর্বে দাশুড়িয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর মাদ্রাসা পাড়া গ্রামের মৃত দখিল সরদারের মাদক সেবী ছেলে জহুরুল ইসলাম সরদারের সাথে পার্শ্ববর্তী আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের মাজপাড়া পূর্বপাড়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের মেয়ে সাথী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নানা অজুহাতে গৃহবধূ সাথীকে চরমভাবে মারধর ও নির্যাতন করতো মাদকসেবী জহুরুল সরদার। গত শনিবার গৃহবধূ সাথীকে জহুরুল তার মা’কে সঙ্গে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে সাথী অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। রোববার সন্ধ্যায় আবারও তাকে সামান্য বিষয় নিয়ে মারধরের একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

 সাথী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলো। হত্যাকান্ডের ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করে জহুরুল ও তার মা সাথীর মরদের তার ঘরের ডাবের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। রাত ৮টার দিকে এলাকার লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ঈশ্বরদী থানায় খবর দিলে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

এলাকাবাসী জানায়, মাদক সেবী জহুরুল ইসলাম সরদার এর আগেও একটি বিয়ে করেছিলো। সেখানে তার ২ সন্তান রয়েছে। তার মাদক সেবন ও অত্যাচারের কারণে সেই স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে চলে যায়। পরে সাথীকে আবার সে বিয়ে করে। সম্প্রতি ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়ে ৩ মাস জেল খেটে বের হয়ে এসেছেন তিনি।ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে লাশ ময়না তদন্তের জন্য প্রেরন করা হয়েছে।