ঈদে নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগ

ঈদে নির্বাচনী মাঠে   আওয়ামী লীগ

মাহফুজ সাদি: চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে-বাইরে চলছে নির্বাচনমুখী নানা তৎপরতা। দেশের অন্যতম বৃহত্তম দল আওয়ামী লীগও সেই তৎপরতা থেকে বাইরে নেই। তাই নানা উপলক্ষে ভোটের হাওয়ায় পাল তুলছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা। ভোটার ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বাগে আনতে নানা পরিকল্পনা নিয়ে মাঠ গোছাচ্ছেন তারা। নির্বাচনকে সামনে রেখে যাকাতের কাপড়, ঈদ সামগ্রী উপহার ইত্যাদির মাধ্যমে ভোটারদের আশ্বস্ত করতে ভিন্ন রকমের এক নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা। এবার ঈদুল ফিতরে এটি নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, ঈদের পর জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক সফর শুরু করবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় টিম। তারা জেলায় ও বিভগে সমাবেশে অংশ নেবেন। জেলায় জেলায় জনসভা করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আসন ভাগাভাগির বিষয়টিও ঈদের পর সম্পন্ন হবে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রায় ১২ লাখ পোলিং এজেন্টকে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ কাজও ঈদের পর শুরু হবে। পুরো রমজানে নির্বাচনী এলাকা চষে বেরিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলো এলাকায় স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন তারা। ভোটারদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। ঈদ উপলক্ষে যাকাত ও ঈদ সামগ্রীসহ বিভিন্ন কিছু দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন ভোটারদের। এছাড়া ইফতার ও মিলাদ মাহফিলে ছিল রাজনীতির মিলনমেলা। জানা গেছে, এবার ঈদে আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাই নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করবেন। যারা ঢাকায় ঈদ করবেন তারা ঈদের আগে এলাকা ঘুরে এসেছেন। বাকিরা ঈদের দিন ও দুই-একদিন পর এলাকায় যাবেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু গত এক সপ্তাহ নিজ নির্বাচনী এলাকা ঝালকাঠি-২-তে কাটিয়েছেন। দলটির উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য তোফায়েল আহমেদও রমজান মাসে ছুটির দিনগুলোতে নিজ এলাকা ভোলায় ছিলেন। গত এক সপ্তাহ নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়িয়েছেন দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ফারুক খান। সভাপতিমন্ডলীর আরেক সদস্য কাজী জাফর উল্লাহও এলাকা ঘুরে এসেছেন।

এসব নেতারা এলাকা ঘুরে যাকাতের কাপড় ও ঈদ সামগ্রী ও নেতা-কর্মীদের ঈদ সেলামি দিয়েছেন। ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। তারা ঈদের পর ঢাকায় ফিরবেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী নিজ নির্বাচনী এলাকা দিনাজপুরে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে মিলিত হয়েছেন। সেইসঙ্গে ভোটার ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ঈদ উপহার, গরিব ও দুস্থ মানুষদের মাঝে বিভিন্ন সামগ্রীসহ যাকাতের কাপড় বিতরণ করেছেন। দলের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীমও এলাকায় ব্যপক তৎপরতা চালিয়েছেন। একই অবস্থা দলটির সম্পাদকমন্ডলীর প্রায় সব সদস্যের ক্ষেত্রেই। সরকার দলীয় এমপিরা এলাকায় নিজস্ব বলয় তৈরি করার চেষ্টা করেছেন, অন্যদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও আগের চেয়ে বেশ সক্রিয় ছিলেন এলাকায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য দৈনিক করতোয়াকে বলেন, ডিসেম্বর মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে। তাই স্থানীয় নেতা-কর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেছি। রমজানে ইফতার মাহফিল ও ঈদ উদযাপন মানুষের কাছে যাওয়ার একটি বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে আমি আমার জনপ্রিয়াতা এবং গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা করেছি। আশা করি নেত্রী মূল্যায়ন করবেন। এ বিষয়ে দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কর্ণেল ফারুক খান বলেন, আওয়ামী লীগের এমপিরা সব সময়ই রোজায় ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে থাকেন। তবে যেহেতু সামনে নির্বাচন, তাই এবার গ্রামে বেশি যাচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

দান খয়রাতও বেড়ে গেছে। এটা দোষের কিছু না। জনপ্রতিনিধি উৎসবে আয়োজনে অবশ্যই তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে থাকবেন এটাই গণতন্ত্রের নিয়ম। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের একজন সদস্য জানান, ঈদের পরই একাদশ সংসদ নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বৈঠক শুরু হবে। এবার যেসব আসনে নতুন মুখ দেওয়া হবে, তাদের এলাকায় জনপম্পৃক্ত হতে বলা হবে। এ জন্য অনেকেই রমজান মাসে ইফতার ও ঈদে যাকাত ও উপহার দিয়ে সে সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ঈদের পরই সিটি ভোটের প্রস্তুতি শেষ করেই জাতীয় নির্বাচনের জন্য আটঘাট বেঁধে মাঠে থাকব। বিএনপিকে আমরা কোন ছাড় দিতে চাই না।