ইয়েমেনে বিমান হামলায় ১৬ বেসামরিক নিহত

ইয়েমেনে বিমান হামলায় ১৬ বেসামরিক নিহত

ইয়েমেনে সব্জি প্যাকেটজাতকরণ কারখানায় বিমান হামলায় অন্তত ১৬ বেসামরিক নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেডিক্যাল কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার দেশটির হোদেইদাহ প্রদেশে হামলাটি হয় বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

এ হামলায় আরও ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বায়াত আল ফাকিহ শহরের মেডিক্যাল কর্মী ও বাসিন্দারা। বায়াত আল ফাকিহ হোদেইদাহ শহর থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে।

বিমান থেকে ফেলা বোমাগুলো শহরের আল মাসৌদি এলাকায় একটি সব্জি প্যাকেটজাতকরণ কারখানায় আঘাত হানে এবং হতাহতরা সবাই ওই কারখানার কর্মী বলে জানিয়েছেন তারা।

হুতিদের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ হামলায় ১৯ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে বলে বলা হয়েছে।   

২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি আরব সামরিক জোট ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। তারপর থেকে তারা ইয়েমেনের ইরান ঘেঁষা বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের লক্ষ্য করে একের পর এক বিমান হামলা চালাতে শুরু করে। এসব হামলায় প্রায়ই বেসামরিকদের প্রাণহানি হলেও এগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে করা নয় বলে দাবি করে আসছে সৌদি সামরিক জোট।

সৌদি জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল মালকি জানিয়েছেন, বায়াত আল ফাকিহের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছেন তারা।

তিনি বলেছেন, “এই প্রতিবেদনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি আমরা। এই ধরনের সব প্রতিবেদনগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, স্বাধীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্ণ তদন্ত করে দেখা হবে। প্রক্রিয়াটি চলতে থাকায় আর কিছু বলা ঠিক হবে না।”

জোটটি কখনো কখনো ‘ভুল’ স্বীকার করে যারা বেসামরিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রতিশ্রুতিও দিয়ে আসছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হোদেইদাহের দক্ষিণাংশের শহরতলীতে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে।

হোদেইদাহ একটি বন্দর শহর। ইয়েমেনের সৌদিপন্থি সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের হটিয়ে শহরটির দখল নিতে চেষ্টা করছে।

হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট আব্দ-রাব্বু মনসুর হাদিকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে রাজধানী সানা দখল করে নেওয়ার পর এই গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে সৌদি জোট।

তারপর থেকে এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত ও ২০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যুদ্ধের কারণে আরব উপদ্বীপের সবচেয়ে দরিদ্র এ দেশটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।