ইয়াবার পর নতুন মাদক খাত

ইয়াবার পর নতুন মাদক খাত

ভয়ানক মাদক ইয়াবার পর এবার নেশা ছড়াচ্ছে ‘খাত’। ইথিওপিয়া থেকে বাংলাদেশে পাঠানো ২০৮ কেজি খাত গত শুক্রবার আটক করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। প্রথমবারের মতো আটক হওয়া খাতগুলো আনা হয় ‘গ্রিন টি’ ঘোষণা দিয়ে। দুটি চালানের মাধ্যমে খাতগুলো দেশে পাঠানো হয়। এর আগে বুধবার রাজধানীর উত্তরা থেকে ৮ মণ   নতুন মাদক খাত জব্দ সহ দু’ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার নিয়ে সর্বমহলে গভীর উদ্বেগের পটভূমিতে ৪মে থেকে দিন ব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে র‌্যাবের অভিযানের পর থেকে জনমনে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। সর্বগ্রাসী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে অভিযান পরিচালিত হবে- এমনটাই আশা ছিল দেশের মানুষের। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযানের যে কোনো বিকল্প নেই, তা অনস্বীকার্য। কিন্তু মাদক ব্যবসা থেমে নেই। মাদক আসা ও বন্ধ নেই। নতুন নতুন রুটে মাদক আসছে দেশে। ইথিওপিয়া থেকে আসছে গ্রিনটি’র আড়ালে নতুন মাদক ‘খাত’।

চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় চার টন  ‘খাত উদ্ধার’ করা হয়েছে। মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি ‘খাত’ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এদের মাধ্যমে আসছে এই মাদকদ্রব্য। গোয়েন্দারা এরই মধ্যে ৩৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম পেয়েছে, যারা সরাসরি খাত সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। অনেক ক্ষমতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি মাদকের কারবারে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের ছত্রচ্ছায়ায়ই বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার পরিচালিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মত, মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হলে প্রথমেই তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যে সব রুট দিয়ে দেশে মাদক প্রবেশ করে, সেই রুটগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে সরকারি কোন কোন সংস্থার এক শ্রেণির অসাধু সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ খুব জোরালো ভাবে গণমাধ্যমে উঠে আসে। আমরা মনে করি, মাদক নির্মূল করতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।