ইয়াবাকারবারিদের আত্মসমর্পণ

ইয়াবাকারবারিদের আত্মসমর্পণ

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে আত্মসমর্র্পণ করছেন কক্সবাজারের ইয়াবা কারবারিরা। এর ধারাবাহিকতায় গত শনিবার কক্সবাজারের শতাধিক ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করেন। টেকনাফে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে ইয়াবা ও অস্ত্র তুলে দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তারা। আত্মসমর্পণ করা ১০২ জনের মধ্যে কক্সবাজারের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির চার ভাই ও ১২ আত্মীয়সহ ১০২ জন রয়েছেন। আত্মসমর্পণকালে তারা ৩ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ও ৩০টি দেশীয় পিস্তল জমা দেন। পরে তাদের কক্সবাজার বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণ করেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মতো মাদক নির্মূল কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নকে সরকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছিল গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে।

দেশের ৩২ জেলার সীমান্তবর্তী ৫১ পয়েন্ট দিয়ে ভারত ও মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসছে শত শত কোটি টাকার মাদক দ্রব্য। স্থলপথ, জলপথ ও আকাশপথেও দেশে ঢুকছে হরেক রকম মাদক। মাদক ব্যবসায়িরা দেশের বহুস্থানে স্থানীয় রাজনীতির নিয়ন্ত্রক শক্তিতে আবির্ভূত হওয়ার স্পর্ধা দেখিয়েছে। তাদের সহায়তায় দেশজুড়ে মাদকের ভয়ঙ্কর নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সহজেই তা ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। সন্দেহ নেই, মাদক দেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মাদকের কারবারি অনেকেই আজ রাস্তার টোকাই থেকে কোটিপতি। কক্সবাজারের মাদক কারবারিদের কারাগারে পাঠিয়ে কোন ফললাভ হবে কি-না, তা এখনই বলা সম্ভবপর নয়। কেননা মাদক ব্যবসা থেমে নেই। আমরা চাই, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, তা আরো জোরদার ও কঠোর হবে। কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে নানামুখী কর্মসূচি নিতে হবে।