ইলিশের জীবন রহস্য উন্মোচন

ইলিশের জীবন রহস্য উন্মোচন

জাতীয় মাছ ইলিশকে ভৌগলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের পর এবার এই মাছের জীবন রহস্য উদঘাটন নিয়ে বাংলাদেশের সাফল্যে আরেকটি পালক যুক্ত হলো। মাছের রাজা হিসেবেও অভিহিত করা হয় এ মাছকে। এই উপাদেয় মাছটির অর্থনৈতিক গুরুত্বও কম না। যে কারণে পদ্মার ইলিশের জীবন রহস্য উদঘাটনে গবেষণায় নামেন বাংলাদেশের একদল গবেষক। তারা উদঘাটন করেছেন ইলিশের জিনোম বিন্যাস। জীব বিজ্ঞানের ভাষায় জিনোম বলতে জীবের সমস্ত বংশগতিক তথ্যের সমষ্টিকে বোঝায়। জীব দেহে বহুসংখ্যক কোষ থাকে। জিনোম সিকোয়েন্স হলো কোষের সম্পূর্ণ ডিএনএ বিন্যাসের ক্রম। জিনোম যত দীর্ঘ, তার ধারণ করা তথ্যের পরিমাণ তত বেশি। প্রতিটি কোষ সেই জীবের বিকাশ ও গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বহন করে।

লন্ডনভিত্তিক বিশ্বখ্যাত জার্নাল বায়োপেড সেন্ট্রাল (বিএমসি) গত সেপ্টেম্বর বাংলাদেশি গবেষক দল উদ্ভাবিত পদ্মার ইলিশের জিন বিন্যাস বা জিনোম সিকোয়েন্স প্রকাশ করে। গবেষকরা বলছেন, ইলিশ কীভাবে সমুদ্রের নোনাজল ও স্বাদু পানি দুই জায়গাতেই বসবাস করে, এই মাছের রোগ বালাই কী, এটি কি বদ্ধ জলাশয়ে চাষযোগ্য, কেন ইলিশ এত সুস্বাদু, কেন একেক এলাকায় ইলিশের স্বাদ একেক রকম, পদ্মা নদীর ইলিশই বা কেন সুস্বাদু ইলিশের জিন বিন্যাস উদঘাটনের ফলে এমন সব প্রশ্নের জবাব পাওয়ার পথ তৈরি হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে জিন বিন্যাস ইলিশের বংশ বৃদ্ধি ও মান সংরক্ষণের পথও বাতলে দেবে। ভৌগলিক নির্দেশক পণ্যের পর জীবন রহস্য উন্মোচন করায় বাংলাদেশ ইলিশের পেটেন্টের জন্য আবেদন করতে পারবে। এটি অনুমোদন পেলে ইলিশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ‘মুরুব্বি দেশের’ মর্যাদা পাবে। অর্থাৎ ইলিশ নিয়ে যে কোনো গবেষণা বা বিপণনে বাংলাদেশের সম্মতির প্রয়োজন হবে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও তা দেশের জন্য সফলতা বয়ে আনবে।