ইরানের মাটিতে ঢুকলে সাবধান’

ইরানের মাটিতে ঢুকলে সাবধান’

করতোয়া ডেস্ক : ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান বাকযুদ্ধ যে কোনো সময়ে সশস্ত্র সংঘাতে রূপান্তরিত হতে পারে বলে আশঙ্কা বেড়ে চলেছে। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেয়ার হুমকির পর সে দেশের রেভোলিউশনারি গার্ড বাহিনীর অন্তরীক্ষ বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরালি হাজিজাদেহ যে কোনো বিদেশি আগ্রাসন সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন। আমেরিকা বা অন্য কোনো দেশ ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে তার পরিণাম ভয়াবহ হবে বলে তিনি সাবধান করে দিয়েছেন। মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন ধ্বংস করে এই বাহিনী আগেই এমন মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে। এর আগে ট্রাম্প তেহরানের নেতৃত্বকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, সে দেশ আমেরিকার যে কোনো লক্ষ্যবস্তুর উপর হামলা চালালে ইরানের কিছু অংশ ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেয়া হবে। একইসঙ্গে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সংলাপের পথও খোলা রাখতে চান। ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ বর্তমান উত্তেজনা দূর করে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সোমবার তিনি ইরানের শীর্ষ নেতাদের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছেন। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ইসরায়েল সফরকালে ইরানের উদ্দেশ্যে সংলাপের প্রস্তাব গ্রহণ করার ডাক দেন। তার মতে, পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি অকেজো করা, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে মদত বন্ধ এবং বিশ্বের অন্যত্র বৈরি আচরণ বন্ধ করার বিষয়ে আলোচনা করতে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রেখেছেন। ইরানকে শুধু এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে। ইরান অবশ্য জানিয়েছে, যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব সম্পূর্ণ অর্থহীন। কারণ সে দেশ বৈধ যুক্তি ছেড়ে বেরিয়ে গেছে। মঙ্গলবার এক টেলিভিশন ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, বিদেশে কোনো সম্পদ না থাকায় খামেনির বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপে কোনো কাজ হবে না। রুহানি হোয়াইট হাউসের এমন সব নিষেধাজ্ঞাকে ‘মানসিক বিকার’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, তেহরান কৌশলগত কারণে ধৈর্য দেখালেও মোটেই ভয় পাচ্ছে না।রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইরানকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন। ইউরোপেও সংঘাতের আশঙ্কা সম্পর্কে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। ডি ডব্লিউ।