ইউএনও এর উদ্যোগে গুরুদাসপুরে ৪ মাসে ৪০টি বাল্যবিয়ে বন্ধ

ইউএনও এর উদ্যোগে গুরুদাসপুরে ৪ মাসে ৪০টি বাল্যবিয়ে বন্ধ

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তমাল হোসেন নানান উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি গত ৪ মাসে উপজেলার ৪০ টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন। জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন বাজারে সচেতনতামূলক বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সম্প্রতি বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধে তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী বিল বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং কি এবং এর ফলে কি শাস্তির বিধান আছে তা উল্লেখ রয়েছে এই বিল বোর্ডে। এছাড়াও ০১৩১৫১৭১৩৫০ নম্বরটি যেন খুব বেশি পরিচিত হয়ে উঠেছে অত্র উপজেলার সর্বসাধারণের কাছে। এই বিশেষ নম্বরটিকে বাল্যবিয়ে এবং ইভটিজিং প্রতিরোধ নম্বর হিসেবে ব্যাপক প্রচারণা করেছেন। সম্প্রতি চাপিলা ইউনিয়নের ধানুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের
       
নবম শ্রেণির ছাত্রী নিজের বাল্যবিয়ে বন্ধ করার জন্য নিজেই বিল বোর্ডে দেয়া নম্বরে ফোন করে ইউএনও’কে অনুরোধ করেন। পরে তাকে  উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে সাহসীকতার পুরস্কার। এই কর্মকর্তা গুরুদাসপুর উপজেলায় চলতি বছরের ১১ জুন যোগদান করেন। যোগদানের এক সপ্তাহ পরেই উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভায় বাল্যবিয়ে এবং ইভটিজিং বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার লক্ষে করেছেন মাইকিং এবং বিলি করা হয়েছে লিফলেট। এছাড়াও ফেসবুক পেইজে ফেসবুক গ্রুপ খোলা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে করেছেন সচেতনতামূলক সমাবেশ। এই অনন্য উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে থেকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন।

শুধু তাই নয় কখনও বর যাত্রী, কখনও কনে যাত্রী, কখনও আবার শিক্ষার্থী এবং কখনও সাধারণ মানুষ সেজে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধের পাশাপাশি ইভটিজিং প্রতিরোধে বখাটেদের ধরে আইনের আওতায় নিয়ে এসে কারাদন্ড ও জরিমানা করেছেন। বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পাওয়া প্রত্যেকটি মেয়েই এখন নিয়মিত স্কুলে যায়। বখাটেদের উৎপাত আর দেখা যায় না। এমনকি রাস্তাঘাটে বখাটেদের দ¦ারা কেউ হয়রানীর শিকার হচ্ছে কিনা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, ইউএনও স্যারের সারথী হিসেবে তিনি আছেন। বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিংসহ সব অন্যায়কে ইউএনও স্যারের নেতৃত্বে দমন করতে আমি সব সময় প্রস্তুত।উপজেলা নির্বাহী অফিসার তমাল হোসেন বলেন, বাল্যবিয়ের ফলে একজন মেয়ের শিক্ষা যেমন বন্ধ হয়ে যায়, পাশাপাশি সুন্দর ভবিষ্যত নষ্ট হয়ে যায়। মেয়েরা যেন তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বিঘেœ যেতে পারে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ থাকে সেই বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।