ই-পাসপোর্ট

ই-পাসপোর্ট

অবশেষে আলোর মুখ দেখছে বহুল আলোচিত ই-পাসপোর্ট। উদ্বোধনের তারিখ কয়েক দফা চূড়ান্তের পরও তা করা সম্ভব হয়নি। এবার তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ২২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। বছর দুয়েক আগে কারিগরি সহযোগিতার জন্য জার্মানির ভেবিডোস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হয়। দুই ক্যাটাগরির ই-পাসপোর্টে তিন ধরনের ফি রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার মধ্যে থাকবে সাধারণ জরুরি ও অতি জরুরি। পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ৫ ও ১০ বছর। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পাসপোর্ট জালিয়াতি ঠেকাতে আরও কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তা করা হবে। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ই-পাসপোর্ট তৈরির কাজ শুরু হয়। ৩০ লাখ ই-পাসপোর্ট বই সরবরাহ করার কথা রয়েছে। সর্বনিম্ন সাড়ে ৩ হাজার টাকা আর সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্বে ১৩০টিরও বেশি দেশ বর্তমানে ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করছে। পাসপোর্ট বুকলেটে একটি ইলেকট্রনিক চিপ ব্যবহারের মাধ্যমে চিরাচরিত নন -ইলেকট্রনিক পাসপোর্টের চেয়ে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট অধিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। বর্তমানে বই আকারে যে পাসপোর্ট রয়েছে ই-পাসপোর্টে একই ধরনের বই থাকলেও তাতে বর্তমানের মতো শুরুতে ব্যক্তির পরিচয় সংবলিত যে দুটি পাতা রয়েছে তা থাকবে না। তার বদলে থাকবে পলিমারের তৈরি একটি কার্ড সেই কার্ডের মধ্যে থাকবে একটি চিপ, তাতে পাসপোর্ট বাহকের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ই-পাসপোর্ট হবে অনেক বেশি নিরাপদ। এর সুবিধা হলো এতে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া সম্ভব হবে না, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটিই সবার কাঙ্খিত ব্যবস্থা। ই-পাসপোর্ট বাংলাদেশের নাগরিকদের তথ্য প্রযুক্তির অগ্রসর পথের যাত্রীদের সাহায্য করবে- এটিই প্রত্যাশা।