আ’লীগ দলীয় শক্তি হারিয়ে পুলিশনির্ভর হয়ে পড়েছে: রিজভী

আ’লীগ দলীয় শক্তি হারিয়ে পুলিশনির্ভর হয়ে পড়েছে: রিজভী

‘প্রার্থী নির্বাচনে বিএনপির ভুলের কারণে নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হয়েছে’ বলে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মন্তব্য করেছেন, তার জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, যোগ্য প্রার্থী আপনাদেরই নেই। আপনারাই সাংগঠনিক শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। আওয়ামী লীগ একটি পুরনো রাজনৈতিক দল। কিন্তু গণবিরোধী কাজ করলে নিজেদের ভেতরের শক্তি নষ্ট হয়ে যায়। আপনারা শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন বলেই পুলিশ, র‌্যাব-বিজিবির ওপর নির্ভর করে আছেন।  

বুধবার (৯ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করার উচিত ছিল, আপনি ১ সেপ্টেম্বর থেকে কোনো আন্দোলন ছাড়াই দেশব্যাপী গণগ্রেফতার, অজ্ঞাত মামলা কিসের জন্য দিয়েছেন? আপনি ১৬-১৭ জন প্রার্থীকে কিসের জন্য কারাগারে ঢোকালেন? মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রুমানা মাহমুদ, মাহবুব উদ্দিন খোকনদের মতো সিনিয়র নেতাদের ওপর হামলা করে আহত করেছেন কেন? তারপরও আপনি বলছেন, যোগ্য প্রার্থী দেওয়া হয়নি?

‘আওয়ামী লীগেরও অনেকে ফোন করে আমাকে বলেছেন, (যাদের নাম প্রকাশ করলে তাদের ক্ষতি হবে) আওয়ামী লীগের মতো একটি পুরনো দল কী করে এটা করতে পারে? অনেকেই বলেছেন, আমরা এটা মানতে পারছি না।’  

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন সরকার বারবার বাধাগ্রস্ত করছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, যে মিথ্যা মামলায় ইতোপূর্বে অনেকেই জামিন পেয়েছেন, সেই মামলাগুলোতেই আদালতকে ব্যবহার করে খালেদা খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্বিত করা হচ্ছে। কুমিল্লার মিথ্যা নাশকতার মামলায় বারবার তারিখ পিছিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আদালতে ন্যায়বিচার পেলে কুমিল্লায় দায়ের করা মিথ্যা নাশকতা মামলায় বিচারিক আদালতেই খালেদা জিয়া জামিন পেতেন।

তিনি বলেন, শাসকশক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় মহাভোট ডাকাতির নির্বাচনের পর এখন সারাদেশে ব্যাপক নির্বাচনী সহিংসতা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। রাষ্ট্রের সব শক্তি প্রয়োগ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের দমন করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা, খুন, ধর্ষণ, হামলা, বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করছে। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অপরাধে গ্রামের মানুষজনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার ব্যাপারে রিজভী বলেন, গত দশ বছরে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা লাখ লাখ কোটি টাকা লুট করে নিলেও, সমস্ত ব্যাংক লুট হয়ে গেলেও দুদক চোখ বন্ধ করে বসে আছে। কিন্তু মির্জা আব্বাস ও আফরোজা আব্বাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

তিনি মির্জা আব্বাস ও আফরোজা আব্বাসের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

রিজভী বলেন, পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ধানের শীষের প্রার্থী রুহুল আমিন দুলালসহ ২২ জন নেতাকর্মী মিথ্যা মামলায় মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) পিরোজপুর কোর্টে হাজিরা দিতে গেলে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পাবনার চাটমোহরে বিএনপি নেতার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি কী করবে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, এটা দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আমাদের যে নীতি-নির্ধারণী কমিটি আছে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, আহমেদ আযম খান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুনীর হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, বিএনপি নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট উপস্থিত ছিলেন।