আসন্ন রমজানে টিসিবির প্রস্তুতি

আসন্ন রমজানে টিসিবির প্রস্তুতি

রমজান মাসকে কেন্দ্র করে এমনিতেই নিত্য পণ্যের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। নাজেহাল হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ। এবার ঠিক রমজানের আগেই নতুন করে দেখা দিয়েছে মরণ ব্যাধি করোনা ভাইরাসের ছোবল। ইতিমধ্যে এ কারণে বিশ্বব্যাপী আমদানি-রপ্তানিতে ধস নেমেছে। তাই আসন্ন রমজানে নিত্য পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশংকাও রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে বদ্ধপরিকর সরকার। ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে বাজারে ভোগ্য ও নিত্য পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, করোনা ভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলা করে মুজিববর্ষ আর রমজান মাসে পণ্য মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ট্রেডিং করপোরেশন অব  বাংলাদেশ টিসিবিকে ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এবারই প্রথম বারের মতো সংস্থাটি নিজেই রমজানের পণ্য আমদানির জন্য এরই মধ্যে দরপত্র আহবান করেছে। মূলত রোজায় প্রতি বছর চিনি, সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, ছোলা, খেজুর এই পাঁচ পণ্য বিক্রি করে টিসিবি। এবার যুক্ত হয়েছে পেঁয়াজ।

 অর্থাৎ এবারের রোজায় ছয় পণ্য বিক্রি করবে প্রতিষ্ঠানটি। গত বছর যেখানে আড়াই হাজার টন সয়াবিন তেল মজুদ করা হয়েছিল, সেখানে এবার মজুদ করা হচ্ছে ৫০ হাজার টন। গত বছর চিনি মজুদ ছিল আড়াই হাজার টন। এবার আনা হচ্ছে ৩০ হাজার টন। গত বছর ছোলা ছিল দেড় হাজার টন, এবার ছোলা আসছে ৮ হাজার টন। গত বছর খেজুর কেনা হয়েছিল ১০০ টন। এবার কেনা হবে ৫০০ টন। মসুরের ডাল আসবে ৩ হাজার টন। এ ছাড়া বাড়তি হিসেবে টিসিবি পেঁয়াজ মজুদ করবে ৩০ হাজার টন। ১ এপ্রিল থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে চিনি, ডাল, সয়াবিন এবং পেঁয়াজসহ চার পণ্য বিক্রি করা হবে। আর ১৫ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র হবে ছোলা ও খেজুর। রোজার পণ্য বিক্রিতে সার্বিক সহযোগিতার জন্য সব জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এবার টিসিবির হাতে বেশি পণ্য থাকায় ব্যবসায়ীরা রোজার বাজারে বেশি কারসাজি করতে পারবে না এবং এ দাম বাড়াতে পারবে না এ আশা সাধারণ মানুষ করতেই পারে।