আলোর পথে এগিয়ে যাওয়া

রবিউল ইসলাম রবীন: কোন রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়,  নানা দিক থেকে একজন সফল মানুষকে মুল্যায়ণ করার ইচ্ছায় ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা আমার এটি। আমি মনে করি তিনি শুধু প্রধানমন্ত্রীই নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি বর্তমান বিশ্বের অনেকের কাছে এখন গবেষণার স্থান পেয়েছেন। একটি বিস্ময়কর, নানা ক্যারিশমার, বহুমুখি প্রতিভার নাম শেখ হাসিনা।  পিতার আদর্শকে ধারণ করে, মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি এখন দেশের সবচেয়ে বড় একটি দলকে পরিচালিত করছেন দৃঢ়ভাবে। ১৭ কোটি মানুষের দেশ পরিচালনা করছেন। যে দেশে অসংখ্য মতের, পথের মানুষ বসবাস করেন। একটানা ক্ষমতায় আছেন ১১ বছর ধরে। তিনি বর্তমানে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা।
বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ, রক্তাক্ত এক ট্রাজেডিতে তিনি পিতা,মাতা,ভাই সহ একমাত্র এক বোন ছাড়া সবাইকে হারান। ১৯৭৫ সালে জাতীর জনককে যখন নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, তখন ঘটনাক্রমে শেখ হাসিনা একমাত্র বোন সহ অবস্থান করছিলেন দেশের বাইরে। সব কিছু হারিয়ে খুনিদের চোখের আড়াল হতে, আর নিজের একটু অবস্থানের জন্য তাঁকে এক দেশ থেকে আরেক দেশ করতে হয়েছে। তাঁকে দেশে আসতেও দেওয়া হয়নি। নানা কষ্টের অধ্যায় পার হয়ে তিনি চরম ঝুঁকি নিয়ে ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে নিজ গৃহে, নিজ দেশে ফেরেন একটা সময়। বঙ্গবন্ধুর আকস্মিক মৃত্যুতে দলের অবস্থা তখন ভাল না। সেই কঠিন সময়ে তাঁকে দলের দায়িত্ব নিতে হয়। রাজনীতিতে প্রবেশ করেন শেখ হাসিনা। নড়বড়ে দলকে একটা সময় ভাল অবস্থানে তুলতে সক্ষম হন। তারপর শেখ হাসিনা, দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠেন। তিনি কখনো বিরোধী দলের নেত্রী ছিলেন। কিন্তু বিপদ তাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেরিয়েছে সব সময়। ১৭ বার হত্যা চেষ্টা হয় শেখ হাসিনার জীবনে। প্রতিবারই তিনি রক্ষা পেয়েছেন।
যে বঙ্গবন্ধু এ দেশে জন্ম না নিলে দেশের জন্মই হয়তো হতো না। যে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বলে দেশ নানা সূচকে এগিয়ে গেছে। পিতা-কন্যা দুজনেই গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী। সেই শেখ মুজিব কে আমরা হত্যা করলাম। তাও সপরিবারে। আর খুনের তালিকায় দেখা গেল তাঁরই পরম আপনজন মুশতাককে। কী করে হয়?  আবার শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ১৭ বার চেষ্টা করা হয়। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে শেখ হাসিনা যেভাবে বেঁচে গেছেন,তা ভাবা যায়না। বড় দলকে চালাতে গিয়ে, দেশকে পরিচালিত করতে গিয়ে ভারতের ইন্দিরাসহ পরিবারের বেশ কয়েকজনকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
শেখ হাসিনার ১১ বছরে পুরো সমাজই যেন বদলে গেছে। বিশ্বের  মধ্যে বাংলাদেশ এখন ’উন্নয়নের রোল মডেল’। বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১৯০৯ ডলার,বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১.৮৯ বিলিয়ন ডলার এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধিও হার ৮.১৩ শতাংশ। অর্থনীতির আকারের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন ৪৩,আর ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় বিশ্বেও ৩৪ তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।
আমরা এখন নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশ। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে আমরা উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার কথা। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বের নামিদামি মানুষ ও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা গুণকীর্তন করছে। বাংলাদেশ যত তাড়াতাড়ি দরিদ্র জনগোষ্ঠির জীবনমানের উন্নয়ন ঘটিয়েছে, দুনিয়ার আর কোন দেশ তা পারেনি। ২০১২ সালের ৩ নভেম্বর বিখ্যাত ইকোনমিষ্ট পত্রিকা ’আউট অব দ্য বাস্কেট’ শীর্ষক এক নিবন্ধে বলেছে, ’কী করা যায়’ সেটা দেখিয়ে দেয়ার মডেলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। কী করে উন্নয়নের মডেলে একটি দেশ পরিণত হয়, সেটি বাংলাদেশ দেখিয়ে দিয়েছে।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করা শেখ হাসিনা জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘসময় ব্যাপি বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, নারীর ক্ষমতায়ন, সমুদ্র বিজয়, তথ্য প্রযুক্তিতে বিপ্লব, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে রফতানিকারক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হওয়া, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ তাঁর নেতৃত্বে সম্ভব হয়েছে।
শেখ হাসিনার সরকারের সময় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি কর্মসূচিতে এ দেশের তৃণমূল মানুষ উপকৃত হয়েছে। বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতা ইত্যাদি কর্মষুচির মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ উপকৃত হয়েছে। তাঁর একান্ত ইচ্ছায় মানুষ বৈশাখী ভাতা পেয়েছে। সরকারি চাকরিজীবিদের বেতন বৃদ্ধি হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামের মানুষ এখন স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে। প্রায় ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন তিনি। তিনি ৩০টির মতো গ্রন্থ সম্পাদনা ও রচনা করেছেন।
তাঁর জন্মদিনে শুভেচ্ছা। শত বছর বাঁচুন তিনি। তাঁর সফল নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাক।
লেখক ঃ সহকারী অধ্যাপক, কলামিস্ট
০১৭২-৫০৪৫১০৫