আ.লীগ ফেঁসে গেলে সব দোষ বিএনপির : রিজভী

আ.লীগ ফেঁসে গেলে সব দোষ বিএনপির : রিজভী

সরকারের লোকজন জুয়া-ক্যাসিনোতে বাংলাদেশ ভাসিয়ে দিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, একটি মুসলিমপ্রধান দেশকে নিষিদ্ধ জুয়া-ক্যাসিনোর দেশে পরিণত করা হয়েছে। এখন তাদের নেতা-এমপি-আমলারা ক্যাসিনোর পক্ষে প্রকাশ্যে সাফাই গাইছেন। তারা সবকিছু হালাল করার চেষ্টা করছেন। আমরা আগেও বলেছি, এখনো বলছি, সবকিছু লোক দেখানো, আইওয়াশ মাত্র। তথাকথিত শুদ্ধি অভিযানের নামে ধরা হচ্ছে ‘কাচকি মাছ’। দুর্নীতি ও লুটপাটের গডফাদাররাই এখনো নিয়ন্ত্রণ করছে সবকিছু।

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, ‘যারা আইন প্রয়োগ করবে সেই পুলিশ এখন সরকারি দলের পান্ডা হিসেবে কাজ করছে। তাদের গডফাদারদের কেন ধরা হচ্ছে না? রাঘববোয়ালদের হাতে নিশ্চয়ই জাতীয় বাজেটের সমান টাকা রয়েছে। ভেজা গামছা যেমন পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে এবং চিপে চিপে পানিশূন্য করা হয়, বাংলাদেশটাকে ঠিক সে রকম করেই সম্পদশূন্য করছে এই গণধিকৃত জবরদখলকারী সরকার।’

‘ক্যাসিনো সংস্কৃতি বিএনপি আমলেই শুরু করা হয়েছে’- তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহামুদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের চিরাচরিত নীতি হচ্ছে তারা কোনো বড় কেলেঙ্কারি করে ধরা খাওয়ার পর যখন আর সামাল দিতে পারে না তখন তারা জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে নিতে দোষ চাপায় বিএনপির ওপর। তারা ফেঁসে গেলে সব দোষ বিএনপির।’

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘২০০৬ সাল থেকে বিএনপি ক্ষমতায় নেই, ক্যাসিনো যদি বিএনপি শুরু করে তাহলে ১৩ বছর সেটি চালু রাখলেন কেন? বন্ধ করলেন না কেন? সে সময়ের গণমাধ্যমের কোথাও কি তারা ক্যাসিনোর কথা প্রকাশ করেছিলেন? সব সাংবাদিক তো আর বিএনপি করতেন না। আওয়ামী লীগের মালিকানায় অনেক সংবাদপত্র ছিল। কোথাও তো একটি শব্দ পাওয়া যায়নি- বিএনপি আমলে বিএনপি নেতারা ক্যাসিনোর সঙ্গে যুক্ত ছিল। যখন মুখোশ খুলে গেছে তখন সেটি ঢাকতে তথ্যমন্ত্রীরা স্বভাবসুলবভাবে মানুষের মধ্যে বিরক্ত উদ্রেককারী ডাহা মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে।’

রিজভী আহমেদ বলেন, এটা সবাই জানে যে, মির্জা আব্বাস সাহেবই ঢাকায় মেয়র থাকাকালীন ক্লাবগুলোতে জুয়া বন্ধ করেছেন। তবে ওবায়দুল কাদের সাহেবকে ধন্যবাদ, তিনি সাচ্চা কথাটি বলেছেন ‘মিথ্যা কথা বলে লাভ নেই, আওয়ামী লীগের সময়ই ক্যাসিনো শুরু হয়েছে’। তাহলে আমাদের আর কী বলার আছে! তথ্যমন্ত্রীর এসব মিথ্যাচারের উদ্দেশ্য শহীদ জিয়া, দেশনেত্রী বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায়কে কালিমালিপ্ত করার জন্য একটা ব্যর্থ প্রচেষ্টা। সেজন্যই বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে নিজের অপকর্মের দায় চাপাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এখন থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে তাই প্রলাপ বকছেন। এসব বন্ধ করুন। বাংলাদেশের মানুষকে কি বোকা ভাবেন? শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাবে না। আপনাদের কথা অনুযায়ী যদি ক্যাসিনো-জুয়া বিএনপির সময়ে শুরু হয়ে তবে তো আপনারা ক্ষমতায় ১২ বছর, আপনারা কেন এই অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসাকে এতদিন ধরলেন না? বাড়িতে বস্তা বস্তা টাকার ভাগ গেলে কেন ধরেননি? যদি বিএনপির সময় এ ধরনের ক্যাসিনো ব্যবসা থাকত, তাহলে ১/১১ সরকারের সময়ে ধরা পড়ত।’

মানুষের জীবন-জীবিকা, মান-সম্ভ্রম, এমনকি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আওয়ামী লীগের হাতে নিরাপদ নয় উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা না দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৫ জনকে ভর্তি, জিপিএ-৫ এর ছড়াছড়ি, সিট বাণিজ্য ও ভর্তি বাণিজ্যের মাধ্যমে জাতিকে বিকলাঙ্গ করেছে এই অবৈধ শাসকগোষ্ঠী। এখন নিজেদের বিপদ আঁচ করতে পেরে আবোল তাবোল বকছে।’

তিনি বলেন, এতে কোনো লাভ হবে না। জনগণের প্রতিরোধের আওয়াজ সর্বত্র শোনা যাচ্ছে। পতন অনিবার্য।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নাজমুল হক নান্নু, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, সহ-দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।