আর্সেনিকের ঝুঁকি

আর্সেনিকের ঝুঁকি

বাংলাদেশে অন্তত পানির অভাব নেই। কথাটা কয়েক যুগ আগেও খুবই সত্য ছিল। এমনকি দশক ধরে আমরা যে বোতলজাত পানি কিনে পান করি, এ বিষয়টাও সে সময় একেবারেই অবিশ্বাস্য ছিল। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে এখন তা বাস্তবতা। পানির অভাব এখনও এ দেশে তেমন নেই, কথা সত্য। তবে সেই বিপুল পানির সামান্য পানি পান যোগ্য। নদী-নালা, পুকুর-ঝিল, এসবের পানি বেশির ভাগই দূষিত। এই পানি পান উপযোগী তো নয়ই, সাধারণ ব্যবহারোপযোগীও নয়। কয়েক যুগ আগেও ভূ-উপরিস্থিত পানির মান খারাপ হলেও ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর ভালোই নির্ভর করা যেত। এখন নতুন উৎপাত আর্সেনিকের কারণে অনেক এলাকায় চাপ কলের পানিও পানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যা আমাদের দেশের জন্য বিরাট হুমকি স্বরূপ। বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৯টি জেলায়ই পানিতে আর্সেনিক লেভেল গ্রহণযোগ্য সীমার (বাংলাদেশের জন্য পিপিবি) চেয়ে ওপরে অবস্থান করছে। ভূ-গর্ভের বেশ গভীরের পানিতে উচ্চ ঘনত্বের আর্সেনিকের উপস্থিতির ফলে এই দূষণ সৃষ্টি হয়।

গাঙেয় ব-দ্বীপ অঞ্চলে গভীর নলকূপ দ্বারা পানি উত্তোলনের ফলে মূলত এই দূষণের উৎপত্তি হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বর্ণিত আর্সেনিকের দূষণের সর্বোচ্চ মাত্রা হচ্ছে ০.০১ মি. গ্রা/ লি... তবে বাংলাদেশের জন্য এটি পাঁচগুণ বেশি অর্থাৎ ০.০৫ মি গ্রা/লি। গাঙ্গেয় ব-দ্বীপে ২০ মিটারের চেয়ে বেশি গভীরতা থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত গভীরতার নলকূপের পানি আর্সেনিকের দূষণের শিকার হয়ে থাকে। বাংলাদেশে যে সব নলকূপের পানিতে আর্সেনিক দূষণ পাওয়া যায় সেগুলোয় লাল রঙ করে দেওয়া হয়, যাতে এই নলকূপের পানি পান করা যাবে  না ..... জনগণই মেসেজটি পেয়ে যায়। আর্সেনিক হতে আর্সেনোকোসিস রোগ ছাড়াও ক্যান্সার হওয়ার আশংকা থাকে। তা ছাড়া পানিতে মিশ্রিত এই অবাঞ্ছিত পদার্থগুলি কিডনি, লিভার এবং হার্টের জন্যও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সম্মিলিতভাবে এই দূষণ রোধ করা জরুরি। পানিকে যথাযথভাবে বিশুদ্ধ করার উপায় আয়ত্ব করতে হবে। প্রয়োজন রয়েছে আর্সেনিক পরীক্ষার কিট সহজলভ্য করার। আর্সেনিকের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই সতর্ক হতে হবে। গ্রহণ করতে হবে কার্যকর উদ্যোগ।