আর্সেনিকের ঝুঁকি মোকাবেলা

আর্সেনিকের ঝুঁকি মোকাবেলা

ভূ-গর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক থাকার কারণে বাংলাদেশে ধানের ফলন কমছে। ফলে প্রকৃত উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষি প্রধান এ দেশটি। ভূ-গর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক এবং ধান আবাদে এর প্রভাব নিয়ে সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখানো হয়েছে, ভূ-গর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক থাকলে, মাটি ও বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আর্সেনিকযুক্ত হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা সহনীয় মাত্রার চেয়ে ১০ থেকে ১০০ গুণ পর্যন্ত বেশি। বাংলাদেশে অন্তত পানির অভাব নেই। কথাটা কয়েকযুগ আগেও খুবই সত্য ছিল। কিন্তু সেই বিপুল পানির সামান্যই পানযোগ্য। নদী-নালা, পুকুর-বিল, এসবের পানি, বেশির ভাগই দুষিত। এ পানি পান উপযোগী তো নয়ই, সাধারণ ব্যবহারের উপযোগীও নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান অনুযায়ী এক লিটার পানিতে ১০ মাইক্রোগ্রাম আর্সেনিক থাকলে সেই পানি দুষিত বলে চিহ্নিত হয়।

কিন্তু আমাদের দেশে অনেক সময় তা ৫০ মাইক্রোগ্রাম ছাড়িয়ে যায়। ফলে এর কারণে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার ও হার্টেরও রোগ ব্যাধি হতে পারে। আর্সেনিকমুক্ত জীবন যাপনের জন্য ভূ-গর্ভের চেয়ে সারফেস ওয়াটার তথা ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের প্রতি সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। এসব পানি যথাযথভাবে বিশুদ্ধ করার উপায় আমাদের আয়ত্ব করতে হবে। বৃষ্টি এবং নদী-নালা ও পুকুর জলাশয়ের পানি কাজে লাগিয়ে আমরা আর্সেনিক দূষণ হতে নিরাপদ থাকতে পারি। প্রয়োজন রয়েছে আর্সেনিক পরীক্ষার কিট সহজ লভ্য করার। আর্সেনিকের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই সতর্ক হতে হবে। গ্রহণ করতে হবে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা ও উদ্যোগ।