আর্জেন্টিনায় নিহত নাবিক আজগরের পরিবার পেলো ৮৩ লাখ টাকা

আর্জেন্টিনায় নিহত নাবিক আজগরের পরিবার পেলো ৮৩ লাখ টাকা

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মেরিন একাডেমির ডেক ক্যাডেট মো. আলী আজগরের পরিবারের কাছে ‘জীবন ক্ষতিপূরণের’ ৮৩ লাখ ৩৮ হাজার ১২৩ টাকার চেক হস্তান্তর করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।


রোববার (০৫ মে) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মৃত ক্যাডেট আলী আজগরের বাবা মো. আলী আকবর খান এবং মা রাজিয়া আকবর এ সংক্রান্ত অর্থের চেক বুঝে নেন।

দায়িত্ব পালনের সময় গত বছরের ৮ জুলাই আর্জেন্টিনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন আজগর।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, অর্থ সহায়তা দিয়ে এই শোক ভুলে যাওয়ার মতো নয়। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ খুব ভারী বিষয়। সন্তানকে ঘিরে যে সম্ভাবনা ছিল তা শুরুতেই নিভে গেছে। তারা শুধু সন্তানকেই হারায়নি, আমরাও একজন দক্ষ নাবিক হারিয়েছি। একজন নাবিক তৈরি করা এতো সহজ ব্যাপার নয়, দুঃসাহসিক কাজ।

ডিজি শিপিংকেও আলী আজগরের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ায় ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সবার পাশে আছি।

নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম এবং মেরিন হাইভ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন শামসুল এ খান এসময় উপস্থিত ছিলেন।

চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৫১তম ব্যাচের ডেক ক্যাডেট আলী আজগর সরকারি শিপিং অফিস চট্টগ্রামের মাধ্যমে স্থানীয় ম্যানিং এজেন্ট মেসার্স মেরিন হাইভ এর ব্যবস্থাপনাধীন ‘এমভি ডালী’ জাহাজের চুক্তিপত্র সাইন অন করেন। পরে জাহাজ পরিবর্তনের কারণে ‘এমভি এশিয়া পার্ল ভি’ জাহাজে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো বন্দরে যোগ দেন। জাহাজটি আর্জেন্টিনার পুয়োর্তে সেন্ট মার্টিন পোর্টে অবস্থানের সময় জাহাজ মাস্টারের অনুমতি নিয়ে শোর লিভ-এ যাওয়ার সময় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আজগর নিহত হন।

স্থানীয় ম্যানিং এজেন্ট মেসার্স মেরিন হাইভ জাহাজ কোম্পানির কাছ থেকে ক্যাডেট আজগরের মৃত্যুর সংবাদটি নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং চট্টগ্রামে সরকারি শিপিং ও তার পরিবারকে জানান। মেসার্স মেরিন হাইভ মৃত ক্যাডেটের মরদেহ গত বছরের ১২ অক্টোবর কোম্পানির নিজ খরচে ব্রাজিল থেকে বাংলাদেশে আনেন এবং তার গ্রামের বাড়ি বরগুনার নলি বন্দরের আজগর কাঠি গ্রামে দাফনের ব্যবস্থা করে। প্রাথমিকভাবে মেসার্স মেরিন হাইভ বিভিন্ন ক্যাডেটের সহায়তায় প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা সংগ্রহ করে মৃত ক্যাডেটের মায়ের নামে ডিপোজিট করা হয়।

পরে মেসার্স মেরিন হাইভ এর উদ্যোগে প্রটেকশন অ্যান্ড ইনডেমনিটি ক্লাবের সহযোগিতায় এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশনায় পারিবারিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ ডলার সমপরিমাণ ৮৩ লাখ ৩৮ হাজার ১২৩ টাকা বুঝে নেওয়া হয়।

আলী আজগর ২০১৭ সালে মেরিন একাডেমির ৫১তম ব্যাচে নটিক্যাল বিভাগ থেকে পাস করেন। এরপর তিনি ‘মেরিন হাইভ লিমিটেড’ ম্যানিং এজেন্ট থেকে জাহাজে যোগ দিতে পাঁচ বছরের জন্য চীনে উচ্চ প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি দুর্ঘটনায় মারা যান।