আর নয় নিমতলী ট্র্যাজেডি, হচ্ছে আলাদা কেমিক্যাল পল্লী

আর নয় নিমতলী ট্র্যাজেডি, হচ্ছে আলাদা কেমিক্যাল পল্লী

 নিমতলী ট্র্যাজেডির কথা মনে পড়লে এখনও আঁতকে উঠতে হয়। ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলীর ৪৩/১ নবাব কাটরায় পাঁচতলা বাড়িতে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারাতে হয় ১২৩ জনকে। আহত হয় কয়েকশ’ মানুষ। আপনজন হারিয়ে নিঃস্ব হতে হয় অনেক পরিবারকে। মূলত কেমিক্যাল গোডাউনের আগুনেই ওইদিনের অগ্নিকাণ্ডটি ঘটে। গোডাউনের অতিদাহ্য রাসায়নিক পদার্থের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।

জীবনের তাগিদে নিমতলীবাসী কর্মব্যস্ত হয়ে উঠলেও এখনও তারা বয়ে বেড়াচ্ছেন সেই দুঃসহ স্মৃতি। আবার যেন একই দুঃস্বপ্নের পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেইজন্য নিমতলীবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে অবশেষে কেরানীগঞ্জে নির্মিত হতে যাচ্ছে আলাদা কেমিক্যাল পল্লী।

পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় চার হাজার কেমিক্যাল গোডাউন, কারখানা রয়েছে। এসব গোডাউন ও কারখানায় বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ থাকায় আবাসিক এলাকার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এগুলো কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।

নতুন ওই কেমিক্যাল পল্লী প্রকল্প প্রসঙ্গে বিসিক পরিচালক (সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন) জীবন কুমার চৌধুরী  বলেন, আমরা আর নিমতলীর মতো ট্রাজেডি দেখতে চাই না। আবাসিক এলাকায় কেমিক্যাল গোডাউন বা কারখানা থাকলে নিমতলীর মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। তাই কেমিক্যাল গোডাউন স্থানান্তর করে নির্জনে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। এরইমধ্যে কেরানীগঞ্জে ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এই কেমিক্যাল পল্লীতে রাজধানীসহ আশপাশের জেলার গোডাউনগুলো একটা সিস্টেমের মধ্যে আনা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, নিমতলাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে অনেক আগে থেকে পরিকল্পনা নিয়ে আসছি। আশা করি দ্রুত আলাদা কেমিক্যাল পল্লীর নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারব।

বিসিক সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জে ৫০ একর জমিতে বাস্তবায়িত হবে ‘বিসিক কেমিক্যাল পল্লী’ প্রকল্প। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গায় সব ধরনের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা, যেমন- ভূমি উন্নয়ন,অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সুবিধা দেওয়া হবে। ঢাকা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জে গড়ে ওঠা কেমিক্যাল গোডাউন এখানে স্থানান্তর করা হবে। এর ফলে শিল্পখাতের আরও উন্নয়ন করবে বাংলাদেশ।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২০২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে দেশের সকল কেমিক্যাল গোডাউন কেরানীগঞ্জে নেয়া হবে।

এসিড, বিস্ফোরক এবং বিভিন্ন কেমিক্যালকে তিন ভাগে বিভক্ত করে কেমিক্যাল পল্লীতে ৩টি জোন করা হবে। প্রত্যেক ট্রেড লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীকে ৪০০ বর্গফুট করে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হবে। আর কেমিক্যাল আমদানিকারকদের নাম সংগ্রহ করবে বিসিক।

প্রকল্পের আওতায় প্রশাসনিক ভবন, পাম্প ড্রাইভার কোয়ার্টার, ফায়ার ব্রিগেড, স্টাফ কোয়ার্টারও নির্মাণ করা হবে। কেমিক্যাল পল্লীতে থাকবে শিল্পনগরীর সীমানা প্রাচীর, প্রবেশপথ, ডাম্পিং ইয়ার্ড,ড্রেন, বক্স কালভার্ট, নলকূপ, পানি সরবরাহ লাইন ও ফায়ার সার্ভিস।