আমি নিশ্চিত নিয়ম বদলাবে : নিউজিল্যান্ড কোচ

আমি নিশ্চিত নিয়ম বদলাবে : নিউজিল্যান্ড কোচ

সন্দেহাতীতভাবেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা ফাইনাল ম্যাচটা হয়েছে গত রোববার, ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। যেখানে টাই হয় ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের মূল ম্যাচ। পরে মীমাংসা করার জন্য সুপার ওভারে গেলে, টাই হয় সেখানেও। সুপার ওভারের নিয়মানুযায়ী ম্যাচে বেশি বাউন্ডারি হাঁকানোর কারণে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয় স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে।


 
এরপর থেকেই চলছে এ নিয়মের পক্ষে-বিপক্ষে নানান আলোচনা। যার বেশিরভাগই মূলত বাউন্ডারি সংখ্যার ওপর জয়ী দল নির্ধারণ করার নিয়ম রাখায়। কারণ বাউন্ডারি সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে জয়ী নির্ধারণের নিয়মটি করা হয়েছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য। যেখানে ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ের গুরুত্বই থাকে বেশি।

সেই একই নিয়ম ওয়ানডে ক্রিকেটের সুপার ওভারের জন্যও রেখে দেয়ায় তা মানতে পারেনি অনেকেই। মানতে পারছেন না ফাইনাল ম্যাচে এ নিয়মের ভুক্তভোগী নিউজিল্যান্ড কোচ গ্যারি স্টিডও। তবে তিনি সরাসরি বিরোধিতা করেননি। আইসিসিকে সুপারিশ করেছেন নিয়মটি পুনরায় ভেবে দেখতে।

সংবাদ মাধ্যমে স্টিড বলেন, ‘আসলে অনুভূতিটা বোঝানো সম্ভব নয়। আপনি পুরো ১০০ ওভার খেললেন এবং বিপক্ষ দলের সমানই রান করলেন। তবু ম্যাচটা হেরে গেলেন। এগুলো আসলে খেলার টেকনিক্যাল ব্যাপার। যা মেনে নেয়া বেশ কঠিন।’

এসময় তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে, আইসিসি নিশ্চিতভাবেই নিয়মটি বদলাবে। স্টিড বলেন, ‘পুরো টুর্নামেন্টই পর্যালোচনা করা হবে। আমি নিশ্চিত তারা যখন নিয়ম লিখেছে, তখন চায়নি যে কোনো ফাইনাল ম্যাচের সমাপ্তি এমন হোক। তারা নিয়মটি পর্যালোচনা করবে এবং ভিন্ন ভিন্নভাবে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করবে।’


সুপার ওভারের নিয়মের কারণে ম্যাচ না হেরেও, চ্যাম্পিয়ন হয়নি নিয়জিল্যান্ড। অথচ ম্যাচটি সুপার ওভারে যাওয়ারই কথা ছিল না। কারণ মূল ম্যাচে ইংল্যান্ডের শেষ ওভারের সময় মার্টিন গাপটিলের ওভার থ্রো যে ৬ রান দেয়া হয়, সেটিতে মূলত ৫ রান পাওনা ছিলো তাদের। আম্পায়ারের ভুলে তখন ১ রান বেশি পায় ইংল্যান্ড এবং পরে ম্যাচটি গড়ায় সুপার ওভারে।

তবে এ বিষয়টিকে বড় করে দেখতে রাজি নন কিউই কোচ। তার মতে আম্পায়ারদের এমন ভুল হতেই পারে। স্টিড বলেন, ‘আমি নিজেও এ ব্যাপারটি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতাম না। দিন শেষে আম্পায়াররাই খেলা পরিচালনা করবেন। খেলোয়াড়দের মতো তারাও মানুষ, যাদের মাঝেমধ্যে ভুল হয়েই যায়। এটাই খেলাধুলার মানবিক দিক।’