ভাষা আন্দোলন : প্রেক্ষিত বগুড়া

আমাদের শহীদ মিনার

আমাদের শহীদ মিনার

জি এম সজল :ভাষা আন্দোলনে বগুড়া জেলার মানুষের ভূমিকা সমৃদ্ধ এবং উজ্জ্বল। উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বলে খ্যাত বগুড়া জেলা নানাভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভৌগলিক অবস্থানগত কারণেই এখান থেকে উত্তরাঞ্চলে রাজনৈতিক তৎপরতার বিস্তার ঘটানো সহজেই সম্ভব হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের সময়ে অসংখ্য প্রতিভাবান মানুষ এগিয়ে এসে শক্তিশালী করেছেন এই আন্দোলনকে। তাদের ডাকে সব শ্রেণীর মানুষ অংশ নিয়ে আন্দোলনকে প্রভাবশালী এবং প্রতিবাদমুখর করে তোলে। ভাষা আন্দোলনকে ঘিরে বগুড়া জেলায় ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির একটি ধারাবাহিক রূপরেখা তুলে ধরছি।
প্রথম প্রতিবাদ সভা ঃ
বগুড়া শহরে প্রথমবারের মতো প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ২৮ ফেব্র“য়ারি। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধের প্রতিবাদ করতে হলে এই আন্দোলনকে একটি আনুষ্ঠানিক রূপ দেয়া প্রয়োজন, এটা বগুড়ার অগ্রগামী মানুষরা বুঝতে পেরেছিলেন। তাই কবি ও অধ্যাপক আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে প্রথমবারের মতো একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয় ১৯৪৮ সালের ২৮ ফেব্র“য়ারি। সভা পরিচালনার জায়গা হিসেবে বেছে নেয়া হয় আজিজুল হক কলেজের প্রাঙ্গণ।
প্রথম কমিটি গঠন ঃ
ভাষা আন্দোলনে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ। এদিন আজিজুল হক কলেজে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয় যার উদ্দেশ্য ছিল প্রদেশব্যাপী (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ধর্মঘট পালন সফল করা। কবি আতাউর রহমানকে আহ্বায়ক করে গঠিত সেই কমিটিতে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল। বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ প্রদেশব্যাপী ছাত্র ধর্মঘট পালন উপলক্ষে বগুড়া আজিজুল হক কলেজে কবি আতাউর রহমানকে আহবায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে ২ জন ছাত্রী সদস্য ছিলেন। এদের একজন বাদুড়তলার আলীম উদ্দিন মোক্তারের মেয়ে এবং ভাষাসৈনিক গোলাম মহিউদ্দিনের বোন সালেহা খাতুন এবং অপরজন ডাঃ মোজাফফর আহম্মেদের বোন রহিমা খাতুন ।
প্রথম মিছিল ঃ
১৯৪৮ এর ১১ মার্চ প্রদেশব্যাপী ছাত্র ধর্মঘট পালনের কর্মসূচিতে বগুড়া আজিজুল হক কলেজ (বর্তমানে পুরাতন ভবন) থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করার জন্য বেরিয়ে পড়ে। এই মিছিলকে ঘিরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। ১১ মার্চ ছাত্র-জনতার মিছিল বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে বের হয়ে শহরের দিকে যাবার সময় সুবিল ব্রীজের কাছে আসলে সেখান থেকে কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সেই মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করেন। জ্ঞানতাপস ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তখন আজিজুল হক কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তিনি সে সময় কলেজে আসছিলেন। আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্ররা তাকে মিছিলের নেতৃত্ব দিতে অনুরোধ করলে তিনি তা গ্রহণ করেন। পরে মিছিল শেষে বগুড়া জিলা স্কুলের আমবাগানে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন এবং অসাধারণ এক বক্তৃতায় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। বহুভাষাবিদ এই জ্ঞানতাপসের অংশগ্রহণে বগুড়ায় চলমান ভাষা আন্দোলন নতুন গতি লাভ করে।
প্রথম রক্তপাত ঃ
ঢাকা বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও ছাত্র বহিষ্কারের প্রতিবাদে ১৯৪৯ সালের ১৭ এপ্রিল প্রদেশব্যাপী ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। সেই সময় বগুড়ায় মিছিলের ওপর গুন্ডাবাহিনী অতর্কিত হামলা করে ছাত্রনেতা আব্দুস শহীদের মাথা ফাটিয়ে দেয়। তিনি গুরুতর আহত হন । সেইদিন পিকেটিং এর সময় ছাত্রীনেত্রী সালেহা খাতুনকে লাঞ্ছিত করা হয়।  
ইতিহাসের পাতা থেকে ঃ
১৯৪৮ সালেই বগুড়ায় ভাষা আন্দোলনকে ঘিরে ব্যাপক তৎপরতা ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্র ফেডারেশন ও কমিউনিস্ট পার্টি এই আন্দোলনে সরাসরি ভূমিকা পালন করে। আজিজুল হক কলেজ থেকে ছাত্র ফেডারেশনের নেতা ও সাহিত্য কর্মী মুহম্মদ আব্দুল মতীনের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হলে সেখানে হামলা চালায় মুসলিম লীগের নেতা ও সমর্থকরা। মিছিলটি কলেজ থেকে বের হবার পরেই তারা হামলার প্রস্তুতি নিতে থাকে। মিছিলটি সাতমাথায় এলে তারা দল বেঁধে হামলা চালায়। ফলে বেশ কয়েকজন আহত হয়।
১৯৪৮ সালের ২৯ নভেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে অবাঙালি জেলা প্রশাসক আবদুল মজিদের হঠকারিতায় এক প্রচ  ছাত্রবিক্ষোভ হয়। ছাত্রনেতা গোলাম রহমান এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন। নভেম্বর-ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত এসব বিক্ষোভে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও শাহ আজীজপন্থী সরকার সমর্থক ছাত্রদল ব্যাপক বাধা দিতে থাকে। এদের আক্রমণে মারাত্মকভাবে আহত হন জননেতা মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের পুত্র এস,এম নুরুল আলম, গোলাম  মহিউদ্দিন, আবুল ফজল সিদ্দিকী ও নূর মোহাম্মদ খান।
১৯৪৮ সালের আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আরো যাদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় তারা হলেন আতিউর রহমান, অধ্যাপক গোলাম রসুল, মুহাম্মদ আব্দুল মতিন, অধ্যাপক আবুল খায়ের, অধ্যাপক পৃত্থিশ দত্ত, আতাউর রহমান, গাজিউল হক, গোলাম মহিউদ্দিন, জালাল উদ্দিন আকবর বুটু, নাজির হোসেন, সাত্তার, তরিকুল খান, নুরুল হোসেন মোল্লা, ইবনে মিজান, শ্যামাপদ সেন ও কবিরাজ মতিয়ার রহমান।
ভাষা আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনকারীদের মধ্যে আরো আছেন কবি রোস্তাম আলী কর্ণপুরী, মোশাররফ হোসেন মন্ডল, অ্যাড. হারুন-উর-রশিদ, কমরেড মোখলেসুর রহমান, আব্দুর রহিম সওদাগর মতিন, সাদেক আলী আহমদ, ডাঃ ননী গোপাল দেবদাস. এ.কে মুজিবুর রহমান, ডাঃ এনামুল হক, ডাঃ সি.এম ইদরিস, ডাঃ আজিজুল হক, আলী আহমদ ও দূর্গাদাস মুখার্জী। ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিনের বেশ কিছু লেখায় ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় অনেক মানুষের নাম উঠে এসেছে। উঠে এসেছে সেসময়ের দুর্বার আন্দোলেন অনেক খন্ডচিত্র।
১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনকে ঘিরে যে অপূর্ব কর্মসচলতা গড়ে ওঠে ১৯৪৯ সালে এসে সেই সচলতাকে বাধা দেবার জন্যে মরিয়া হয়ে ওঠে শাসকগোষ্ঠী।
১৯৫০ সাল বগুড়ায় ভাষা আন্দোলনের কাজ চালিয়ে যাবার পক্ষে খুবই দূরুহ হয়ে ওঠে। শাসকগোষ্ঠীর দোসররা নানা ভাবে এই আন্দোলনকে দমানোর চেষ্টা করে। আন্দোলন যাতে দানা বেধে উঠতে না পারে সে জন্যে তারা পুলিশ ও গোয়েন্দাবাহিনীকে লেলিয়ে দেয় আন্দোলনকারীদের ওপর। গ্রেফতার হন অসংখ্য ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-শিল্পী-সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মী। কঠোর দমন-পীড়নের ফলে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী মানুষদের সাথে সাধারণ জনগণের যোগাযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
১৯৫১ সালের মাঝামাঝি এই অবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়। কমিউনিস্ট পার্টি একটি ‘কন্ট্রাক্ট কমিটি’ তৈরি করে এর মাধ্যমে আন্দোলনকে সংগঠিত করার চেষ্টা করে। এই কমিটির কাজ ছিল, আন্দোলনকে একটি সর্বদলীয় আন্দোলনের রূপ দেয়া এবং একটি সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা। এই কমিটির মাধ্যমেই জননেতা মাওলানা ভাসানীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে আন্দোলনকে গতিশীল করে তোলা হয়।
প্রথম সর্বদলীয় কমিটি গঠন ঃ
শেষ পর্যন্ত ১৯৫২ সালের শুরুতে কমরেড মোখলেছুর রহমানের উদ্যোগে শহরের বাদুড়তলায় আলীম উদ্দিন মোক্তারের বাসায় একটি গোপন বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সর্বদলীয় কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে ’৫২ এর ১৭ ফেব্র“য়ারি বগুড়ার থানা রোডে (বর্তমান কবি নজরুল ইসলাম সড়ক) ছাত্রনেতা আবদুস শহীদের পিতা আবদুল ওহাব খলিফার ত্রিতল বাসার নিচতলার হলঘরে বিপুলসংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে কবিরাজ আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে একটি সর্বদলীয় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় “সর্বদলীয় বাংলা রাষ্ট্রভাষা কমিটি ঃ মতান্তরে “বগুড়া জেলা সর্বদলীয় বাংলা রাষ্ট্রভাষা কমিটি” গঠন করা হয়।
প্রতিনিধি সভায় প্রবীণ রাজনীতিবিদ মজির উদ্দিন আহমেদকে সভাপতি, কৃষক নেতা আবদুল আজীজ কবিরাজ কে সহ-সভাপতি এবং ছাত্রনেতা গোলাম মহিউদ্দিনকে আহ্বায়ক করে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি, বগুড়া শাখা গঠন করা হয়। কমিটির তালিকা উদ্ধৃত করছি। তালিকাটিতে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপকতা ও সংহতি আন্তরিকভাবে ফুটে উঠেছে।
সভাপতি: অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক ‘নিশান’ পত্রিকার প্রবীণ সম্পাদক-সাংবাদিক, জননেতা (যিনি পরে যুক্তফ্রন্ট দলীয় প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হয়েছিলেন) মজির উদ্দিন আহমেদ।আহবায়ক/সম্পাদক: গোলাম মহিউদ্দিন।
অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন শেখ মহিউদ্দিন, শেখ হারুনুর রশীদ, ছমির উদ্দিন ম ল, এ.কে মজিবুর রহমান (পরে এমপি হয়েছিলেন), কবিরাজ শেখ আবুদল আজিজ, সিরাজুল ইসলাম, আবদুস শহীদ, নুরুল হোসেন মোল্লা (তৎকালীন বগুড়া উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিক), মোটর শ্রমিক নেতা সুবোধ লাহিড়ী, আবদুর রহিম সওদাগর মতিন, বিড়ি শ্রমিক নেতা শাহ আহমেদ হোসেন, রিকশা শ্রমিক নেতা মোখলেসুর রহমান, কৃষক নেতা ফজলুর রহমান, তমদ্দুন মজলিসের কবি-সাহিত্যিক খোন্দকার রোস্তম আলী কর্ণপুরি, মরহুম লুৎফর রহমান সরকার (পরে পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংক’র গভর্নর হয়েছিলেন, তখন ছাত্রাবস্থা), কৃষক প্রজাপার্টির নেতা কবিরাজ মোফাজ্জল বারী।
এই কমিটি গঠন হবার পর পরই বগুড়ায় ভাষা আন্দোলন বেগবান হয়। ১৮ ও ১৯ ফেব্র“য়ারি এই কমিটির আহ্বানে জিলা স্কুল ময়দানে বিশাল জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ২১ ফেব্র“য়ারি ঢাকায় মিছিলে গুলিবর্ষণে হতাহতের ঘটনা জানামাত্র বগুড়ায় দিনব্যাপী হরতাল পালিত হয়। পরের দিনও হরতাল ও বিক্ষোভ প্রদর্শন চলতে থাকে। সেদিন থেকে টানা ১৮ দিন বগুড়ার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালন করা হয়।
এরপর ধারাবাহিকভাবে এই আন্দোলন চলতে থাকে। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী বাংলাভাষাকে স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত বগুড়া ভাষা আšেদালনের গতি উজ্জ্বলতর হয়ে উজ্জীবিত থেকেছে।
বগুড়ায় ’৫২ এর ২১ ফেব্রুয়ারি ঃ
ঐদিন  বগুড়া জিলা স্কুল ও মোস্তাফাবিয়া আলীয়া মাদ্রাসা ব্যতীত সকল স্কুল কলেজ এবং শহরে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়।  সকালে জিলাস্কুল মাঠে আমতলায় হারুন-উর-রশীদের সভাপতিত্বে ছাত্রসভা এবং বিকেলে একইস্থানে কবিরাজ আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রেফতার ঃ ’৫২ এর ২১ ফেব্র“য়ারি রাতে গ্রেফতার করা হয় ভাষা আন্দোলনে অংশ নেয়া নেতৃবৃন্দের বেশ কয়েক জনকে। এরা হচ্ছেন হারুন-উর-রশীদ, গোলাম মহিউদ্দিন, সুবোধ লাহিড়ী, আব্দুর রহিম সওদাগর মতিন, ছমির মন্ডল প্রমুখ।
বৃহত্তর বগুড়া জেলায় ধর্মঘট পালন ঃ ঢাকায় গুলি বর্ষণ, ছাত্রহত্যা, সরকারী রেডিওতে ছাত্র হত্যার সংবাদ প্রচার না করার প্রতিবাদে ’৫২ সালের ২৪ ফেব্র“য়ারি বৃহত্তর বগুড়া জেলায় ধর্মঘট পালন করা হয় । ঐদিন তিলকপুর হাইস্কুল,পাঁচবিবি লাল বিহারী উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়, জয়পুরহাটে স্থানীয় স্কুল ও মাদ্রাসায় ছাত্র -ছাত্রীরা ঢাকায় গণ হত্যার প্রতিবাদে এবং বাংলাকে অন্যতম  রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ধর্মঘট পালন করে মিছিল ও জনসভা করে।
প্রথম স্থায়ী শহীদ মিনার ঃ
বগুড়াতে প্রথম স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মিত হয় আজিজুল হক ডিগ্রী কলেজ (বর্তমানে নতুন ভবন) প্রাঙ্গণে । কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যোগে নির্মিত এই শহীদ মিনারের জন্য কলেজের তহবিল থেকে কোন টাকা খরচ করতে হয়নি। স্থানীয় অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন ভাষা শহীদদের স্মৃতিতে নির্মিত হতে থাকা শহীদ মিনারটির জন্য।
বগুড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার  
বগুড়া পৌরসভার অধীনে জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয় ১৯৭৮ সালে । শহরের শহীদ খোকন পার্কে বগুড়ার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের খ্যাতিমান শিল্পী খন্দকার আমিনুল করিম দুলালের নকশায় নির্মাণ করা হয় বিশাল আকৃতির দৃষ্টি নন্দন এই শহীদ মিনার। নির্মাণের পর এটি হয়ে ওঠে এ জেলার সাংস্কৃতি সেবীদের সকল সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের কেন্দবিন্দ্রু ।
কিন্তু ২০০৪ সালে সাংস্কৃতিক কর্মিদের প্রবল বাঁধা এবং সব ধরনের আন্দোলনকে উপেক্ষা করে প্রয়াত শিল্পী দুলালের নকশাকৃত দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে ফেলা হয়। সেখানে নির্মাণ করা হয় একটি ছোট্ট বেদী বিহীন শহীদ মিনার। বগুড়ার সচেতন জনগোষ্ঠী  ২০০৪ সাল থেকেই নতুন শহীদ মিনার ভেঙ্গে আগের নকশা অনুযায়ী শহীদ মিনার পুনঃ নির্মাণের জন্য আন্দোলন করে আসছে। যা এখনও চলমান।
(তথ্যসূত্র:১.ভাষা আন্দোলনে বগুড়া (আজিজার রহমান তাজ সম্পাদিত), ২.মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস (ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল)।)
লেখক ঃ অফিস প্রধান , দৈনিক ইত্তেফাক, বগুড়া ব্যুরো অফিস
[email protected]