আমরা অনেক দূর এগিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী

আমরা অনেক দূর এগিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী

করতোয়া ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। ইতোমধ্যে আমাদের নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ বলা হয়েছে। কিন্তু যে জাতি রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে, তাদের সঙ্গে তো নিম্ন শব্দটি থাকতে পারে না।  বুধবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট সেগুনবাগিচায় চার দিনব্যাপী আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শিগগিরই উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পাবে। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জন্য যত রকমের শর্ত রয়েছে, তার সবই বাংলাদেশ পূর্ণ করেছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থানটাকে উন্নত করতে পারবো। সেই পর্যায়ে এসে গেছি। ইনশাআল্লাহ সেই ঘোষণা আপনারা শিগগিরই পাবেন।’ তিনি বলেন, আমাদের এখন একটি সুযোগ এসে গেছে। যে কয়টি ক্যাটাগরিতে অর্জন থাকলে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেতে পারি, তার প্রতিটি শর্তই বাংলাদেশ এখন পূর্ণ করেছে। কাজেই আমাদের মর্যাদাটা আরও এক ধাপ ওপরে এগিয়ে নিতে পারবো। শ্রীলঙ্কায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সেখানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের কিছু কিছু চিত্র বিভিন্ন মিডিয়ায় দেখেছি। এজন্য সত্যিই আমরা আনন্দিত। জাতিসংঘ সদস্যভুক্ত সব দেশে যেন এই দিবসটি পালিত হয়, আমরা এর জন্য তথ্য সব জায়গায় পাঠিয়েছি। আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকেও প্রতিবছর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তাহলে সবাই বিষয়টি জানতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাভাষা নিয়ে অনেক যন্ত্রণা আমাদের সইতে হয়েছে। ভুক্তভোগী হিসেবে আমাদের বিষয়টি মনে আছে। একসময় আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলো বাংলা অক্ষরে বাংলাভাষা লেখা যাবে না। আরবি হরফে বাংলা লিখতে হবে, এই দাবির প্রতিবাদ করলো বাঙালিরা। তারপর বলা হলো, রোমান হরফে বাংলা লিখতে হবে। এরও প্রতিবাদ হলো। তারপর এলো রবীন্দ্রনাথ পড়া যাবে না। তিনি হিন্দু। এ জন্য তার লেখা পড়লে আমাদের মুসলমানিত্ব নষ্ট হয়ে যাবে। জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের লেখাগুলোকে মুসলমানি ভাষা দেওয়া হবে। তার ‘মহাশ্মশান’ হয়ে গেলো ‘গোরস্থান’। ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি’কে পরিবর্তন করা হলো। লেখা হলো, ‘ফজরে উঠিয়া আমি দেলে দেলে বলি।’ আমাদের ছাত্রজীবনে কত রকমের যন্ত্রণাভোগ করেছি, তা বুঝতে পারছেন। ‘আমরা ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছি। এটা আমাদের জন্য বিরাট গর্বের। কাজেই এই ভাষার ব্যবহার ও চর্চা ভুলে গেলে চলবে না। বাঙালি হিসেবে সব ঐতিহ্য আমাদের ধারণ করতে হবে। চর্চা করতে হবে।’ জাতিসংঘে জাতির পিতার বাংলায় ভাষণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমি প্রতিবছর জাতিসংঘে বাংলাভাষায় ভাষণ দিয়ে থাকি। প্রধানমন্ত্রী বলেন,  একটা  জাতিকে ধ্বংস করার জন্য তার ভাষা, সংস্কৃতির ওপর আঘাত করা হয়। সেই ষড়যন্ত্রটা পাকিস্তানি শাসকেরা আমাদের ওপর করেছিল। এরই পথ ধরে আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে বাঙালি জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মর্যাদা পেয়েছি। রাষ্ট্র পেয়েছি।’ তিনি বলেন, ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন না করলে পাকিস্তান শাসনতন্ত্রে বাংলা ভাষা মর্যাদা পেতো না। তখন ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ঘোষণা করে। শহীদ মিনার গঠন করে। এজন্য বাজেটও করা হয়। তবে আইযুব খান সামরিক শাসন দেওয়ার পর সেটা তখন এগোয়নি। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা যে আদর্শ নিয়ে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, বাংলাদেশকে ক্ষুদামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে। বাঙালি জাতি বিশ্ব সমাজে মাথা উঁচু করে মর্যাদার সঙ্গে চলবে। বাংলাদেশ হবে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। অসাম্প্রদায়িক চেতানা বাংলাদেশ হবে ক্ষুদামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ। ইনশাল্লাহ আমরা তা গড়ে তুলতে পারবো। কারণ আমরা অনেকদূর এগিয়ে গেছি। আজকে আমরা সারাদিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি।