আবারও রক্তাক্ত পাহাড়

আবারও রক্তাক্ত পাহাড়

পাহাড়ে গত নয় মাসের ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে এই প্রথম বারের মতো চারজন সাধারণ মানুষ মারা গেল। এ নিয়ে নয় মাসে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৪-এ। খাগড়াছড়ি শহরের অদূরে স্বনির্ভর বাজারে গত ১৮ আগস্ট প্রতিপক্ষের গুলিতে (ইউপিডিএফ প্রসিত প্রুপ সমর্থিত) পাহাড়ি ছাত্র-পরিষদের (পিসিপি) খাগড়াছড়ি শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা ও এক পথচারী সহ সাতজন নিহত হয়েছেন। এর আগে ৪ মে রাঙামাটির নানিয়ার চর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমার (শেষকৃত) অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বেতছড়ি এলাকায় প্রতিপক্ষের ব্রাশ ফায়ারে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তপন জ্যোতি চাকমা সহ পাঁচজন নিহত হন। ঘটনার জন্য জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপকে দায়ী করেছিল। ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর ইউপিডিএফ ভেঙে কিছু নেতা জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপের সঙ্গে মিলে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নামে নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ করে। এরপর থেকে পাহাড়ে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত শুরু হয়।

১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পর ১৯৯৮ সালের ২১ ডিসেম্বর আত্মপ্রকাশ করে চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউপিডিএফ। এরপর থেকে পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। আসলে এরা কারা? মূলত এই সব সন্ত্রাসী সংগঠন সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়। এদের মদদ দিয়ে চলেছে বাইরের শক্তি। সীমান্তের ওপারে এদের ঘাঁটি রয়েছে। অস্ত্র, রসদ সরবরাহ করে বাইরের শক্তি। আধুনিক অস্ত্র নিয়ে দেশে প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে আবার সীমান্তের ওপারে ঘাঁটিতে আশ্রয় নেয়। এরা চাঁদাবাজি, অপহরণ, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। এসব সন্ত্রাসী সংগঠনকে দমাতে হবে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ নিশ্চিত দেশদ্রোহিতা। দেশদ্রোহিদের নির্মূল করতে হবে। পাহাড়ে জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির বিরুদ্ধে ঘৃণ্য দেশদ্রোহীদের যে কোনে ষড়যন্ত্র ধুলিস্যাৎ করতে রাষ্ট্রকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।