আবারও পাহাড়ে রক্তপাত

আবারও পাহাড়ে রক্তপাত

আবারও পাহাড় রক্তাক্ত। পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় এসে ঘটলো মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা। গত সোমবার পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় ভোট গ্রহণ শেষে ফেরার পথে অস্ত্রধারীদের ব্রাশ ফায়ারে নিহত হয়েছেন পোলিং অফিসার ও আনসার ভিডিপি’র নারী সদস্য সহ ৭ জন এবং এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশসহ নির্বাচনের দায়িত্ব পালনকারী আরো ১৬ জন। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় পাহাড়জুড়ে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। অপর এক ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর এ হামলার জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করেছেন।  এ দিকে নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার (আরইও) সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন, বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো এ আক্রমণ চালিয়েছে। এসব হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাই আমরা।  একই সঙ্গে এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর থেকেই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পার্বত্য অঞ্চলকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। অস্ত্রের ঝনঝনানিতে মেতে উঠে প্রাণ ঝরাচ্ছে বাঙালি-পার্বত্যবাসীর। দেশ বিরোধী অস্ত্রধারী এসব বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এরা পার্বত্য এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিষিয়ে তোলার যে হুমকি সৃষ্টি করেছে তা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কল্যাণকর নয়। আমরা মনে করি, অবিলম্বে সেখানকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। দুর্গম এলাকা থেকে নিরাপত্তা চৌকিগুলিকে পুন:স্থাপন করে  এ অঞ্চলের শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। এখনই শক্ত হাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া না হলে দুস্কৃতকারীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।