আবার আগুন আবার প্রাণহানি

আবার আগুন আবার প্রাণহানি

আবারও রাজধানীতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড আবারও বিপুল প্রাণহানি। পুরান ঢাকার চকবাজারে চুড়িহাট্টায় অগ্নিকান্ডে ভয়াবহ আগুনে ৭২ জনের প্রাণহানির ক্ষত না শুকাতেই অভিজাত এলাকাবাসীর বহুতল এফআর টাওয়ারে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে এক শ্রীলংকানসহ অন্তত ২৫ জন নিহত হন। দগ্ধ ও পড়ে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭০ জন। নিখোঁজ রয়েছেন অনেকেই। এ ঘটনায় আমরা সবাই মর্মাহত। ফায়ার সার্ভিসের ৫ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই পুড়ে ছাই হয়েছে ২২তলা ভবনটির চারটি ফেøার। ভবনের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার দুর্বলতা, মানুষের সচেতনতার অভাব এবং অপরিকল্পিত ভবনের নকশার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় যেমন মৃত্যুর হার ভয়ানক বেড়েছে, তেমনি অগ্নিকান্ডে মৃত্যুও বাড়ছে। একটি বিষয় সব সময়ই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য যে, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাদের সীমিত সক্ষমতা দিয়ে বারবার পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। নিমতলী, পুরান ঢাকা কিংবা এ রকম আরো ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের সময় আমরা তা লক্ষ্য করেছি। আমরা বরাবর বলছি একটি পরিকল্পিত নগরের কথা, যেখানে মানুষ শান্তিতে নিরাপদে বাস করবে। অথচ একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে চললেও যেন কারও কিছু করার নেই। কিন্তু এতে সীমাহীন এই ক্ষতিপূরণ তো হওয়া সম্ভব নয়। যার বা যাদের স্বজন পরিচিতজনরা ক্ষতির শিকার হবেন তারাই বাকি জীবন এই দু:সহ স্মৃতি বয়ে বেড়াবেন। একটি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে তার স্থাপত্য কি নকশা প্রণয়ন থেকে সব সুযোগ-সুবিধা মানুষের জন্য নিরাপদ করা জরুরি বিষয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তদারকির ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপার হলো, ভবনগুলো থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে জরুরি রাস্তা বা সিঁড়ির ব্যবস্থা নেই। অগ্নিকান্ডের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, সাধারণ মানুষ এবং সশস্ত্র বাহিনীর তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। যারা নিয়ম-নীতি বা আইন মানবে না, তাদের আইন অনুযায়ী শাস্তি দিতে হবে। আমরা আশা করব, সাম্প্রতিককালের বিভিন্ন অগ্নিকান্ড থেকে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ করবে। আমরা চাইনা, আগুনের লেলিহান শিখায় আর কারও প্রাণ যাক।